আয়কর আইনের উৎস

(Sources of Income Tax Law in Bangladesh)

কর আইন ও আয়কর চর্চার উৎস

1

কর আইন ও আয়কর চর্চার উৎস

Sources of Tax Law & Practice of Income Tax

🏛️ A. আইন প্রণয়ন (Legislation)

  • আয়কর আইন, ২০২৩ (Income Tax Act 2023)
  • আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ (Income Tax Rules 1984)
  • অর্থ আইন অথবা অধ্যাদেশ ও NBR এর ব্যাখ্যা
  • দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (DTAA)
  • স্ট্যাটুটরি রুলস ও অর্ডার (SROs)

⚖️ B. বিচারিক নজির (Case Laws)

কর আইনের ব্যাখ্যা অস্পষ্ট হলে বিভিন্ন আদালতে মামলা হয়। এসব মামলার রায় দ্বারা গঠিত হয় “Case Law” অথবা বিচারিক নজির। উচ্চ আদালতের রায় আইনি দৃষ্টান্ত হিসেবে ভবিষ্যতের মামলায় অবশ্য পালনীয়, যতক্ষণ না তা নতুন আইনে পরিবর্তিত হয়।

2

কর আইন ও আয়কর চর্চার উৎস

📚 Part 2 — NBR Publications

📰 C. এনবিআর প্রকাশনা (NBR Publications)

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) হল আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিষয়ে সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্তৃপক্ষ। তারা বিভিন্ন প্রকাশনা, নির্দেশনা ও গাইডলাইন মাধ্যমে করদাতা ও দপ্তরসমূহকে সহায়তা করে।

  • এনবিআর ওয়েবসাইটে ফর্ম, ব্রোশার ও নোটিফিকেশন প্রকাশ।
  • আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস সংক্রান্ত নির্দেশনা ও ব্যাখ্যা প্রদান।
  • নিম্নস্তরের কর অফিসে প্রেরিত নির্দেশ বাধ্যতামূলক ভাবে প্রযোজ্য।
  • বিভিন্ন SRO ও সার্কুলারের মাধ্যমে করদাতাদের জন্য নীতিমালা প্রকাশ।

সারসংক্ষেপ: আইন, বিচারিক নজির ও NBR এর নির্দেশনাই বাংলাদেশের আয়কর চর্চার তিনটি প্রধান উৎস।

3

বাংলাদেশের কর কাঠামো

Bangladesh Tax Structure

💡 কর কাঠামোর ধরন

বাংলাদেশের কর ব্যবস্থা দুইটি প্রধান ভাগে বিভক্ত — সরাসরি করপরোক্ষ কর

🏦 সরাসরি কর (Direct Tax)

  • আয়কর
  • উপহার কর
  • ভূমি উন্নয়ন কর
  • বিদেশ ভ্রমণ কর
  • স্ট্যাম্প শুল্ক ও নিবন্ধন ফি

💰 পরোক্ষ কর (Indirect Tax)

  • ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর)
  • আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক
  • আবগারি শুল্ক
  • টার্নওভার ট্যাক্স
  • সম্পূরক শুল্ক

💼 কর রাজস্ব বাংলাদেশের মোট সরকারি আয়ের প্রায় ৮৫% অংশ জুড়ে রয়েছে — যা জাতীয় বাজেটের প্রধান ভিত্তি।

4

এনবিআর ও নন-এনবিআর কর শ্রেণিবিভাগ

📊 Tax Categories by Revenue Agency

📘 কর রাজস্বের দুই শ্রেণি

জাতীয় বাজেটে কর রাজস্ব দুইভাবে বিভক্ত — এনবিআর কর এবং নন-এনবিআর কর

🏢 এনবিআর কর

  • আয়কর
  • ভ্যাট, আবগারি শুল্ক
  • আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক
  • নিয়ন্ত্রক ও সম্পূরক শুল্ক
  • উপহার ও ভ্রমণ কর

🧾 মোট কর রাজস্বের প্রায় ৯৬% আসে এনবিআর কর থেকে।

🚘 নন-এনবিআর কর

  • ভূমি রাজস্ব
  • অবিচারিক স্ট্যাম্প
  • মোটরযান কর
  • নিবন্ধন ফি
  • মাদক ও মদ শুল্ক
5

বাংলাদেশের কর ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য

⚙️ Significant Features of the Tax System

🌀 (A) বহুবিধ কর ব্যবস্থা

বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকার কর প্রচলিত, প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে:

💼 আয় ও মুনাফার উপর কর

  • কোম্পানি আয়কর
  • অ-কোম্পানি ব্যক্তির আয়কর

🏠 সম্পত্তি ও মূলধন হস্তান্তর

  • উপহার কর
  • ভূমি রাজস্ব
  • অবিচারিক স্ট্যাম্প শুল্ক

🛍️ পণ্য ও সেবা কর

  • আমদানি/রপ্তানি শুল্ক
  • ভ্যাট ও আবগারি শুল্ক
  • টার্নওভার ট্যাক্স
  • সম্পূরক শুল্ক
  • ভ্রমণ কর, বিদ্যুৎ শুল্ক
6

সংজ্ঞা

মূল শব্দ ও অর্থ

7

সংজ্ঞা (Definitions)

Part 1 — মূল শব্দ ও অর্থ

“অনিবাসী” অর্থ নিবাসী নহেন এইরূপ কোনো ব্যক্তি।

“আত্মীয়” অর্থ কোনো ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, ভাই, বোন বা বংশানুক্রমিক পূর্বসূরি বা উত্তরসূরি।

“আয়”

  • (ক) এই আইনের অধীন করযোগ্য উৎস হইতে উদ্ভূত আয়, মুনাফা বা অর্জন।
  • (খ) উৎসে কর্তন বা সংগ্রহযোগ্য যেকোনো অর্থ।
  • (গ) আয় বা মুনাফা সংশ্লিষ্ট ক্ষতি।
  • (ঘ) বিমা ব্যবসা হইতে অর্জিত মুনাফা বা প্রাপ্তি।
  • (ঙ) বাংলাদেশে উদ্ভূত বা বিবেচিত যেকোনো আয় বা প্রাপ্ত অর্থ।
  • (ছ) প্রাকৃতিক নয় এমন কোনো পরিসম্পদের অর্জন।

“আয়কর” অর্থ এই আইনের অধীন আরোপযোগ্য বা পরিশোধযোগ্য যেকোনো প্রকারের কর বা সারচার্জ।

“আয়বর্ষ” অর্থ করবর্ষের অব্যবহিত পূর্ববর্তী অর্থবৎসর, যাহাতে ব্যবসা বা আয়ের উদ্ভব ঘটে।

8

সংজ্ঞা (Definitions)

Part 2 — কর, করবর্ষ ও করদাতা

“কর”

আয়ের উপর প্রদেয় কর, অতিরিক্ত কর, দণ্ড, সুপার কর, সুদ, ফি ইত্যাদি অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে।

“করদাতা”

যে কোনো ব্যক্তি যিনি আয়ের উপর কর প্রদান করতে বাধ্য বা আইনের অধীনে করদাতা হিসাবে গণ্য, যেমন:

  • যাহার আয় নির্ধারণযোগ্য;
  • ন্যূনতম কর প্রদানকারী;
  • রিটার্ন দাখিলকারী বা খেলাপি করদাতা;
  • কর কার্যধারার অধীন ব্যক্তি।

“করবর্ষ”

জুলাই মাসের ১ তারিখ হইতে পরবর্তী ১২ মাস পর্যন্ত সময়কে করবর্ষ বলা হয়।

“কর অব্যাহতি”

কোনো ব্যক্তিকে রেয়াত, অবকাশ বা হ্রাসকৃত হারে কর প্রদানের মাধ্যমে কর দায় হইতে আংশিক বা পূর্ণ মুক্তি প্রদান।

“রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ”

  • স্বাভাবিক ব্যক্তি — আয়বর্ষ শেষে নভেম্বর ৩০ তারিখ।
  • প্রতিষ্ঠান — আয়বর্ষ শেষে নবম মাসের ১৫তম দিন।
  • বিদেশে অবস্থানকারী — প্রত্যাবর্তনের ৯০ দিনের মধ্যে।
9

সংজ্ঞা — “নিবাসী” (Resident)

ধারা অনুযায়ী আয়বর্ষে বাংলাদেশে অবস্থানের শর্ত

(ক) স্বাভাবিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে

এইরূপ কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি বাংলাদেশে অবস্থান করিয়াছেন —

  • (অ) ধারাবাহিকভাবে অথবা সমষ্টিগতভাবে ১৮৩ দিন বা ততোধিক সময়;
  • (আ) অথবা, উক্ত বর্ষে অন্তত ৯০ দিন এবং পূর্ববর্তী ৪ বছরে মোট ৩৬৫ দিন বা ততোধিক সময় অবস্থান।

(খ) হিন্দু অবিভক্ত পরিবার, ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ

যাহাদের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যাবলি সম্পূর্ণরূপে উক্ত আয়বর্ষে বাংলাদেশে সংঘটিত হয়।

(গ) কোম্পানি

যে কোনো বাংলাদেশি বা বিদেশি কোম্পানি, যাহার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যাদি সম্পূর্ণরূপে উক্ত বর্ষে বাংলাদেশের অভ্যন্তর হইতে সংঘটিত হয়।

(ঘ) ট্রাস্ট, তহবিল বা কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা

যাহারা বাংলাদেশে বলবৎ কোনো আইনের অধীনে সৃষ্ট এবং যাহাদের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যাদি সম্পূর্ণরূপে দেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত।

10

আয়করের হার

২০২৫–২০২৬ করবর্ষ

স্বাভাবিক ব্যক্তি, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ও ফার্মের জন্য

11

সংক্ষিপ্ত বিবরণ

Overview of Key Tax Parameters

📜 আইনি ভিত্তি

অর্থ আইন, ২০২৪ এর তফসিল-৩ অনুযায়ী নির্ধারিত করহার ও শর্তাবলি।

⚖️ প্রযোজ্যতা

এই হারসমূহ ২০২৫–২০২৬ করবর্ষের জন্য প্রযোজ্য।

👥 করদাতা

স্বাভাবিক ব্যক্তি, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার এবং ফার্ম।

📊

৭টি কর স্তর

০% থেকে ৩০% পর্যন্ত প্রগতিশীল করহার প্রযোজ্য

12

করমুক্ত সীমা

💸

৩,৫০,০০০ টাকা

প্রথম ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা

সম্পূর্ণ করমুক্ত

অর্থাৎ: বছরে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের জন্য কোনো আয়কর দিতে হবে না

13

বিশেষ করদাতাদের করমুক্ত সীমা

আয়কর আইন অনুযায়ী ভিন্ন শ্রেণির করদাতার জন্য নির্ধারিত সীমা

👩‍💼

মহিলা করদাতা ও ৬৫+ বয়সের করদাতা

৪,০০,০০০ টাকা +৫০,০০০ অতিরিক্ত
🏳️‍⚧️

তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি

৪,৭৫,০০০ টাকা +১,২৫,০০০ অতিরিক্ত
🎖️

গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা

৫,০০,০০০ টাকা +১,৫০,০০০ অতিরিক্ত
👨‍👩‍👧‍👦

প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতামাতা

প্রতি সন্তানের জন্য +৫০,০০০ টাকা যেকোনো একজন পাবেন
14

করের হার তালিকা

স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য প্রযোজ্য স্ল্যাব ভিত্তিক করহার

💰 আয়ের স্তর 📈 করের হার
প্রথম ৩,৫০,০০০ টাকা ০%
পরবর্তী ১,০০,০০০ টাকা ৫%
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা ১০%
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা ১৫%
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা ২০%
পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা ২৫%
অবশিষ্ট আয় ৩০%
15

ন্যূনতম আয়কর

অবস্থানভেদে প্রযোজ্য ন্যূনতম আয়কর হার

করমুক্ত সীমার ঊর্ধ্বে আয় থাকলে করদাতার অবস্থানভেদে ন্যূনতম আয়কর প্রদান করতে হবে

এলাকা ন্যূনতম কর (টাকা)
ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ৫,০০০
অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকা ৪,০০০
সিটি কর্পোরেশন ব্যতীত অন্যান্য এলাকা ৩,০০০
💡

গুরুত্বপূর্ণ নোট

প্রদেয় আয়কর বা বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত বিবেচনার পর প্রদেয় আয়কর ন্যূনতম আয়করের চেয়ে কম, শূন্য বা ঋণাত্মক হলেও প্রযোজ্য ন্যূনতম আয়কর পরিশোধ করতে হবে।

16

করহার চার্ট

আয়ের স্তর অনুযায়ী প্রগতিশীল করহার প্রদর্শন

০%
৩.৫ লক্ষ
৫%
১ লক্ষ
১০%
৪ লক্ষ
১৫%
৫ লক্ষ
২০%
৫ লক্ষ
২৫%
২০ লক্ষ
৩০%
অবশিষ্ট

প্রগতিশীল করহার — আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে করের হার বৃদ্ধি পায়

17

সারচার্জ

২০২৫–২০২৬ করবর্ষ

💰 নীট পরিসম্পদভিত্তিক সারচার্জের হার

নীট পরিসম্পদ ≤ ৪ কোটি

সারচার্জ: শূন্য

৪ কোটি < নীট পরিসম্পদ ≤ ১০ কোটি

নিজ নামে একাধিক মোটরগাড়ি বা মোট ৮,০০০ বর্গফুটের অধিক গৃহ-সম্পত্তি থাকিলে প্রযোজ্য।

সারচার্জ: ১০%

১০ কোটি < নীট পরিসম্পদ ≤ ২০ কোটি

সারচার্জ: ২০%

২০ কোটি < নীট পরিসম্পদ ≤ ৫০ কোটি

সারচার্জ: ৩০%

নীট পরিসম্পদ > ৫০ কোটি

সারচার্জ: ৩৫%

📘 ব্যাখ্যা

  • নীট পরিসম্পদের মূল্যমান: ধারা ১৬৭ অনুযায়ী রিটার্নে প্রদর্শিত নীট পরিসম্পদ ও দায়ের পার্থক্য।
18

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

করহার প্রযোজ্যতা, ব্যতিক্রম ও কার্যকারিতা সম্পর্কিত তথ্য

⚠️

বিশেষ ব্যতিক্রম

উল্লেখিত করহার তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারক করদাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

অন্তর্ভুক্ত: সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল এবং সকল প্রকার তামাকজাত পণ্য।

📅 কার্যকর সময়

২০২৫-২০২৬ করবর্ষ

📋 আইনি ভিত্তি

অর্থ আইন, ২০২৪

💡 তথ্যসূত্র:

  • জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৫-২০২৬ কর নির্দেশিকা।
  • অর্থ আইন, ২০২৪ এর তফসিল-৩ অনুসারে প্রযোজ্য করহার।
  • যেকোনো সংশোধনী ও প্রজ্ঞাপন NBR ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

আপনার কর সচেতনতা দেশের উন্নয়নের ভিত্তি।

19

আয় পরিগণনা

আয় পরিগণনা

20

অংশ ৫

আয় পরিগণনা

প্রথম অধ্যায়: মোট আয়

২৯

মোট আয় পরিগণনা

সকল খাতের আয় যোগ করিয়া করদাতার মোট আয় পরিগণনা করিতে হইবে।

৩০

আয়ের খাতসমূহ

আইনে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, যেকোনো আয় নিম্নলিখিত খাতসমূহে শ্রেণিবদ্ধ হইবে:

(ক) চাকরি হইতে আয়
(খ) ভাড়া হইতে আয়
(গ) কৃষি হইতে আয়
(ঘ) ব্যবসা হইতে আয়
(ঙ) মূলধনি আয়
(চ) আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়
(ছ) অন্যান্য উৎস হইতে আয়
21

দ্বিতীয় অধ্যায়

ব্যাখ্যা: চাকরি হইতে আয়

ব্যাখ্যা

“বেতন” অর্থ:

কর্মচারী কর্তৃক চাকরি হইতে প্রাপ্ত যেকোনো প্রকৃতির অঙ্ক এবং নিম্নবর্ণিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত:

  • যেকোনো বেতন, মজুরি বা পারিশ্রমিক
  • যেকোনো ভাতা, ছুটি ভাতা, ছুটি নগদায়ন, বোনাস, ফি, কমিশন, ওভারটাইম
  • অগ্রিম বেতন
  • আনুতোষিক, অ্যানুইটি, পেনশন বা ইহাদের সম্পূরক
  • পারকুইজিট
22

ধারা ৩৩

পারকুইজিট, ভাতা ও সুবিধাদির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ

আর্থিক মূল্যে প্রদেয় পারকুইজিট, ভাতা ও সুবিধা ব্যতীত অন্যান্য পারকুইজিট, ভাতা ও সুবিধার আর্থিক মূল্য নিম্নবর্ণিত সারণী মোতাবেক নির্ধারিত হইবে:
ক্রমিক পারকুইজিট, ভাতা, সুবিধা নির্ধারিত মূল্য
১। আবাসন সুবিধা
(ক) আবাসনের ভাড়া সম্পূর্ণভাবে নিয়োগকর্তা কর্তৃক পরিশোধিত হইলে অথবা নিয়োগকর্তা কর্তৃক আবাসনের ব্যবস্থা করা হইলে আবাসনের বার্ষিক মূল্য
(খ) হ্রাসকৃত ভাড়ায় প্রাপ্ত আবাসনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়া এবং পরিশোধিত ভাড়ার পার্থক্য
২। মোটরগাড়ি সুবিধা
(ক) ১৫০০ সিসি পর্যন্ত: মাসিক ১৫,০০০ টাকা
(খ) ১৫০০–২০০০ সিসি: মাসিক ২০,০০০ টাকা
(গ) ২০০০–২৫০০ সিসি: মাসিক ৩০,০০০ টাকা
(ঘ) ২৫০০ সিসির অধিক: মাসিক ৫০,০০০ টাকা
৩। অন্য কোনো পারকুইজিট, ভাতা বা সুবিধা পারকুইজিট, ভাতা বা সুবিধার আর্থিক মূল্য অথবা ন্যায্য বাজার মূল্য অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
💡

গুরুত্বপূর্ণ নোট

এই সারণী অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য করযোগ্য আয়ের অংশ হিসেবে গণ্য হবে এবং সেই অনুযায়ী আয়কর প্রদান করতে হবে।

23

ভাড়া হইতে আয়

গৃহসম্পত্তির মোট ভাড়ামূল্য,অন্যান্য সম্পত্তির মোট ভাড়ামূল্য

24

তৃতীয় অধ্যায়

ভাড়া হইতে আয় — সংজ্ঞা

৩৫

সংজ্ঞা

(১) “গৃহসম্পত্তি” অর্থ:

যেকোনো গৃহসম্পত্তি, ভবন বা দালানসহ নিম্নবর্ণিত পরিসম্পদও অন্তর্ভুক্ত:

  • (ক) আসবাবপত্র, ফিক্সার, ফিটিংস যাহা উক্ত গৃহের অবিচ্ছেদ্য অংশ
  • (খ) গৃহসম্পত্তি যে ভূমির উপর স্থাপিত উক্ত ভূমি

অন্তর্ভুক্ত নয়:

  • সম্পূর্ণরূপে গুদাম হিসাবে ব্যবহৃত ভবন
  • কারখানা ভবন যাহা প্ল্যান্ট ও মেশিনারি ভাড়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ

(২) “ভাড়া প্রদান” অর্থ:

মালিকানা বা স্বত্ব ত্যাগ ব্যতিরেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পত্তির ব্যবহারের অধিকার প্রদান।

ব্যতিক্রম:

তফসিলি ব্যাংক, বিনিয়োগ ব্যাংক, উন্নয়নমূলক ফাইন্যান্স কোম্পানি বা মুদারাবা/লিজিং কোম্পানি কর্তৃক ভাড়া প্রদান অন্তর্ভুক্ত নয়।

(৩) “সম্পত্তি” অর্থ:

গৃহসম্পত্তি, জমি, আসবাবপত্র, ফিক্সার, কারখানা ভবন, ব্যবসার আঙ্গিনা, যন্ত্রপাতি, ব্যক্তিগত যানবাহন ও মূলধনি প্রকৃতির অন্য কোনো ভৌত পরিসম্পদ, যাহা ভাড়া প্রদান করা যায়।

25

তৃতীয় অধ্যায়

ভাড়া হইতে আয়

৩৬

ভাড়া হইতে আয়

(১) গণনা পদ্ধতি:

মোট ভাড়ামূল্য − অনুমোদনযোগ্য খরচ = ভাড়া হইতে আয়

(২) ব্যবসায়িক ব্যবহার:

সম্পত্তির কোনো অংশ স্বীয় ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইলে, উক্ত অংশের জন্য এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না।

(৩) সাধারণ নিয়ম:

হোস্টেল, হোটেল, মোটেল বা রিসোর্ট ব্যতীত অন্য সকল সম্পত্তির আয় “ভাড়া হইতে আয়” খাতে পরিগণিত হইবে।

26

ধারা ৩৭

গৃহসম্পত্তির মোট ভাড়ামূল্য

📘 সূত্র:

ক = (খ + গ + ঘ) – ঙ

ক = মোট ভাড়ামূল্য

খ = গৃহসম্পত্তির বার্ষিক মূল্য

গ = সেলামী / প্রিমিয়াম ও অন্যান্য প্রাপ্তি

(ফেরতযোগ্য জামানত ও অগ্রিম ব্যতীত)

ঘ = ভাড়াটিয়া কর্তৃক পরিশোধিত চার্জ

সার্ভিস চার্জ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়

ঙ = শূন্যতা ভাতা

(বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদির প্রমাণ সাপেক্ষে)

💡 ব্যাখ্যা:

গৃহসম্পত্তির মোট ভাড়ামূল্য নির্ধারণের সময় উক্ত উপাদানগুলির যোগফল হইতে প্রযোজ্য শূন্যতা ভাতা বাদ দিতে হইবে। ফলাফলে প্রাপ্ত অর্থ কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

🏠 উদাহরণ:

যদি গৃহসম্পত্তির বার্ষিক মূল্য ১২,০০,০০০ টাকা হয় এবং প্রাপ্ত সেলামী ৩,০০,০০০ টাকা, ভাড়াটিয়া চার্জ ৫০,০০০ টাকা এবং শূন্যতা ভাতা ১,০০,০০০ টাকা হয়, তবে মোট ভাড়ামূল্য হবে ১৪,৫০,০০০ – ১,০০,০০০ = ১৩,৫০,০০০ টাকা।

27

ধারা ৩৭

অন্যান্য সম্পত্তির মোট ভাড়ামূল্য

📘 সূত্র:

ক = খ + গ

ক = মোট ভাড়ামূল্য

খ = গৃহসম্পত্তি ব্যতীত অন্যান্য সম্পত্তির বার্ষিক মূল্য

গ = অন্যভাবে সম্পত্তি ব্যবহার হইতে অর্জিত আয়

সেলামী / প্রিমিয়াম ও অন্যান্য প্রাপ্তি (ফেরতযোগ্য জামানত ও অগ্রিম ব্যতীত)

📋

মূল নীতি

গৃহসম্পত্তি ও অন্যান্য সম্পত্তির জন্য ভিন্ন সূত্র প্রযোজ্য। গৃহসম্পত্তির ক্ষেত্রে শূন্যতা ভাতা কাটা যায়, কিন্তু অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।

28

ধারা ৩৮

ভাড়া হইতে প্রাপ্ত আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য বিয়োজনসমূহ

(১) গৃহসম্পত্তির জন্য বিয়োজনযোগ্য খরচ

(ক) বিমা প্রিমিয়াম:

গৃহসম্পত্তির ক্ষতি বা ধ্বংসের ঝুঁকির বিপরীতে পরিশোধিত বিমা প্রিমিয়াম।

(খ) ঋণের সুদ/মুনাফা:

গৃহসম্পত্তি অর্জন, নির্মাণ, সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের জন্য ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি হইতে গৃহীত মূলধনি ঋণের উপর পরিশোধিত সুদ বা মুনাফা।

(গ) কর ও চার্জ:

গৃহসম্পত্তির উপর পরিশোধিত কোনো কর, ফি বা অন্য কোনো বার্ষিক চার্জ (মূলধনি চার্জ প্রকৃতির নহে)।

(ঘ) ভাড়াপূর্ব সুদ/মুনাফা:

ভাড়াপূর্ব সময়ে পরিশোধিত সুদ বা মুনাফা ভাড়া শুরুর সহিত সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষ হইতে একাদিক্রমে মোট ৩ (তিন) আয়বর্ষে সমকিস্তিতে বিয়োজনযোগ্য।

শর্ত: ৩ বছরের পর আর বিয়োজনযোগ্য হইবে না।

29

ধারা ৩৮

সংবিধিবদ্ধ বিয়োজন

(২) সম্পত্তির ধরন অনুযায়ী সংবিধিবদ্ধ বিয়োজন

ক্রমিক সম্পত্তির ধরন সংবিধিবদ্ধ বিয়োজন
১। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত গৃহসম্পত্তি ৩০%
২। অবাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত গৃহসম্পত্তি ২৫%

অন্তর্ভুক্ত খরচ: ভাড়া সংগ্রহ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার্ভিস চার্জ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ এবং অন্যান্য মৌলিক সেবা সংক্রান্ত ব্যয়।

💡

বিশেষ মন্তব্য

সম্পত্তির ব্যবহারভেদে বিয়োজনের হার পরিবর্তিত হয়। বাণিজ্যিক সম্পত্তির জন্য তুলনামূলকভাবে উচ্চতর বিয়োজন নির্ধারিত।

30

ধারা ৩৮ (অব্যাহত)

আনুপাতিক বিয়োজন ও অন্যান্য সম্পত্তি

গৃহসম্পত্তির আনুপাতিক বিয়োজন

(চ) আংশিক ভাড়া:

গৃহসম্পত্তির আংশিক ভাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে আংশিক ভাড়ার বিপরীতে আনুপাতিক হারে খরচ অনুমোদনযোগ্য হইবে।

(ছ) সময়ভিত্তিক ভাড়া:

আয়বর্ষের অংশবিশেষের জন্য ভাড়া প্রদান করা হইলে ভাড়া প্রদানকৃত সময়ের আনুপাতিক হারে খরচ অনুমোদনযোগ্য হইবে।

(২) গৃহসম্পত্তি ব্যতীত অন্যান্য সম্পত্তির বিয়োজন

(ক) ব্যবসায়িক বিয়োজন:

ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে ধারা ৪৯–৫৫ অনুযায়ী যে সকল বিয়োজন যে সকল সীমা ও শর্তে অনুমোদিত।

(খ) ব্যাংক ট্রান্সফার শর্ত:

তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী অনুমোদিত ভাতাসমূহ ব্যতীত অন্যান্য সকল বিয়োজন ব্যাংক ট্রান্সফার এর মাধ্যমে সম্পন্ন হইতে হইবে।

💡

মূল নীতি

গৃহসম্পত্তি: নির্দিষ্ট হারে সংবিধিবদ্ধ বিয়োজন + অন্যান্য নির্দিষ্ট খরচ।

অন্যান্য সম্পত্তি: ব্যবসায়িক নিয়মে বিয়োজন + ব্যাংক ট্রান্সফার বাধ্যতামূলক।

আনুপাতিক: আংশিক বা সময়ভিত্তিক ভাড়ার ক্ষেত্রে সমানুপাতিক বিয়োজন প্রযোজ্য।

31

ধারা ৩৯

বিশেষ ভাড়া হইতে আয় — অংশ ২

💰

(৪) সেলামী / প্রিমিয়াম প্রাপ্তি

ভাড়া প্রদানের সময় ফেরতযোগ্য নহে এমন সেলামী, প্রিমিয়াম বা অনুরূপ অর্থ বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে।

শর্ত:

চুক্তি অনুযায়ী ফেরতযোগ্য অংশ বাদে অবশিষ্ট অংশই করযোগ্য।

🛠️

(৫) ভাড়াটিয়ার প্রদত্ত পরিষেবা

ভাড়াটিয়া মালিকের পক্ষে মেরামত বা উন্নয়ন ব্যয় বহন করলে, উহা মালিকের আয় বলিয়া গণ্য হইবে এবং করযোগ্য হইবে।

উদাহরণ:

ভাড়াটিয়া নিজ ব্যয়ে ভবন রং বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র মেরামত করিলে, তাহার ব্যয়মূল্য করযোগ্য।

📜

(৬) অপ্রকাশিত বা অতিরিক্ত অর্থপ্রাপ্তি

লিখিত চুক্তিতে উল্লিখিত অর্থের অতিরিক্ত কোনো অর্থ গ্রহণ করলে, তাহা বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে এবং প্রকাশযোগ্য হবে।

💡

মূল নীতি

বিশেষ ভাড়া হইতে আয় অর্থ এমন প্রাপ্তি, যাহা নিয়মিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত, অব্যয়িত বা অপ্রকাশিত। এ সকল প্রাপ্তি করযোগ্য এবং সম্পত্তির মালিকের আয়ের অংশ।

32

ধারা ৩৯

বিশেষ ভাড়া হইতে আয় — অংশ ২

💰

(৪) অসমন্বয়যোগ্য অঙ্ক

ভাড়া প্রদানের বিপরীতে গৃহীত অসমন্বয়যোগ্য অঙ্ক, উহা যেই নামেই অভিহিত হোক না কেন, বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে।

বিশেষ সুবিধা:

  • বণ্টন: করদাতার ইচ্ছানুযায়ী প্রাপ্তির বছর ও পরবর্তী ৪ বছরে সমান অংশে বণ্টন করা যাইবে।
  • ফেরত: পরবর্তী কোনো আয়বর্ষে ফেরত প্রদান করিলে সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে বিয়োজনযোগ্য হইবে।
🧾

(৫) অন্যান্য সম্পত্তির অননুমোদিত ব্যয়

এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, গৃহসম্পত্তি ভিন্ন অন্য কোনো সম্পত্তির ভাড়া হইতে আয় এর ক্ষেত্রে ধারা ৫৫ এর দফা (ক) এর অধীন অননুমোদিত সকল ব্যয় বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে।

⚠️

(৬) বিশেষ ভাড়া আয়ের বিধিনিষেধ

এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে পরিগণিত আয়ের বিপরীতে:

নিষিদ্ধ:

  • কোনো প্রকারের বিয়োজন
  • ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানা
  • তৃতীয় তফসিলের অধীন কোনো ভাতা

💼 করহার: নিয়মিত করহারে করদায় নির্ধারিত হইবে।

33

কৃষি হইতে আয়

কৃষি আয়, বিশেষ কৃষি আ

34

চতুর্থ অধ্যায়

কৃষি হইতে আয়

৪০

কৃষি হইতে আয়

🌾 (১) সাধারণ নিয়ম:

কোনো ব্যক্তির কৃষি সম্পর্কিত কার্যাবলি হইতে অর্জিত আয় “কৃষি হইতে আয়” হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ হইবে।

🍃 (২) চা ও রাবারের বিশেষ বিধান:

কোনো ব্যক্তি কর্তৃক উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াকৃত চা এবং রাবার এর বিক্রয়লব্ধ অর্থ নিম্নরূপে শ্রেণিবদ্ধ হইবে:

৪০%

ব্যবসা হইতে আয়

৬০%

কৃষি হইতে আয়

🌱 দ্রষ্টব্য: কৃষিজ আয় সাধারণত ভূমি, ফসল, পশুপালন, বা কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যাবলির মাধ্যমে অর্জিত হয়।

35

ধারা ৪০ (৩)

কৃষির সংজ্ঞা ও পরিধি

কৃষি অর্থে অন্তর্ভুক্ত কার্যক্রম

🌱
উদ্যান পালন

যেকোনো প্রকার উদ্যান পালন

🐄
পশু-পাখি পালন

গবাদি পশু ও পাখি পালন

🌾
ভূমির প্রাকৃতিক ব্যবহার

জমির স্বাভাবিক কৃষি ব্যবহার

🦆
হাস-মুরগির খামার

পোল্ট্রি ও হাঁস-মুরগি পালন

🐟
মাছের খামার

মৎস্য চাষ ও খামার

🐍
সরীসৃপ খামার

সাপ, কুমির ইত্যাদির খামার

🌿
নার্সারি

গাছপালার চারা উৎপাদন

🌊
ভূমিতে বা জলে চাষাবাদ

যেকোনো প্রকারের চাষাবাদ

🥛
ডিম-দুধ উৎপাদন

দুগ্ধ ও ডিম উৎপাদন

🌳
কাঠ, তৃণ ও গুল্ম উৎপাদন

বনজ সম্পদ উৎপাদন

🍎
ফল, ফুল ও মধু উৎপাদন

ফলমূল, ফুল ও মৌচাক

🌰
বীজ উৎপাদন

কৃষি বীজ উৎপাদন

36

ধারা ৪১

বিশেষ কৃষি আয় – পরিসম্পদ বিক্রয়

(২) কৃষিকাজে ব্যবহৃত পরিসম্পদ বিক্রয়

কোনো পরিসম্পদ করদাতার ধারা ৪০ এর কৃষিকাজে ব্যবহৃত হইবার পর কোনো আয়বর্ষে বিক্রয় করা হইলে নিম্নরূপ প্রযোজ্য হইবে —

ক্রমিক বিক্রয়লব্ধ অর্থ আয় হিসাবে গণ্য অর্থের পরিমাণ
১। বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক হয়
মূলধনি আয়

ক – খ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতার “মূলধনি আয়” হিসাবে গণ্য হইবে।

খ – গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতার “কৃষি হইতে আয়” হিসাবে গণ্য হইবে।

২। বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক না হয়, তবে অবলোপিত মূল্য হইতে অধিক হয়
কৃষি হইতে আয়

ক – গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতার “কৃষি হইতে আয়” হিসাবে গণ্য হইবে।

(৪) সূত্রের ব্যাখ্যা

ক =

বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা বিমা/স্যালভেজ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ

খ =

পরিসম্পদের অর্জন মূল্য

গ =

অবচয় অনুমোদনের পর অবলোপিত মূল্য

(৫) ক্ষতির ক্ষেত্রে

যদি বিক্রয়লব্ধ অর্থ ও অবলোপিত মূল্যের পার্থক্য ঋণাত্মক হয়, তবে ফলাফল “কৃষি হইতে আয়” খাতে ব্যয়িত বলিয়া গণ্য হইবে এবং অনুমোদিত সাধারণ বিয়োজনের অন্তর্ভুক্ত হইবে।

37

ধারা ৪১ (৩) ও (৬)

বিমা, ক্ষতিপূরণ ও অননুমোদিত ব্যয়

(৩) বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ

কৃষিকাজে ব্যবহৃত কোনো পরিসম্পদ পরিত্যক্ত, নিশ্চিহ্ন বা ধ্বংস হইবার কারণে প্রাপ্ত বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ যদি অবলোপিত মূল্যের অধিক হয়:

ক্রমিক বিমা / ক্ষতিপূরণের অবস্থা আয় হিসাবে গণ্য অর্থের পরিমাণ
১। বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক হয়
মূলধনি আয়

ক – খ এর সমপরিমাণ অর্থ করদাতার “মূলধনি আয়” হিসাবে গণ্য হইবে।

খ – গ এর সমপরিমাণ অর্থ করদাতার “কৃষি হইতে আয়” হিসাবে গণ্য হইবে।

২। বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক না হয়, তবে অবলোপিত মূল্য হইতে অধিক হয়
কৃষি হইতে আয়

ক – গ এর সমপরিমাণ অর্থ করদাতার “কৃষি হইতে আয়” হিসাবে গণ্য হইবে।

⚠️

(৬) অননুমোদিত ব্যয়

এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৫৫ এর দফা (ক) এর অধীন অননুমোদিত সকল ব্যয় “বিশেষ কৃষি আয়” হিসাবে গণ্য হইবে।

💡

গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • বিমা / ক্ষতিপূরণ: পরিসম্পদ ধ্বংস বা ক্ষতির কারণে প্রাপ্ত অর্থের উপর আয়কর প্রযোজ্য।
  • অননুমোদিত ব্যয়: কৃষি আয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবসায়িক আয়ের মতো একই নীতিতে এই বিধান কার্যকর।
38

ধারা ৪২

কৃষি হইতে আয় খাতে অনুমোদিত সাধারণ বিয়োজনসমূহ

সাধারণ নীতি

মূলধনি ব্যয় বা ব্যক্তিগত ব্যয় ব্যতীত, সম্পূর্ণরূপে এবং কেবল কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যয়িত অর্থ বিয়োজন হিসাবে অনুমোদনযোগ্য।

ভূমি সংক্রান্ত কর ও খাজনা

কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমি বা আঙ্গিনার উপর পরিশোধিত যেকোনো প্রকার কর, ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা।

ভাড়া ও উন্নয়ন ব্যয়

কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমি বা আঙ্গিনার জন্য পরিশোধযোগ্য ভাড়া, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ ব্যয় এবং চাষাবাদ ব্যয়।

ঋণের সুদ / মুনাফা

কৃষির উদ্দেশ্যে গৃহীত ঋণের পরিশোধযোগ্য সুদ বা মুনাফা।

যন্ত্রপাতি ও গবাদিপশু

কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, সরঞ্জামাদি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত, এবং গবাদিপশুর লালন-পালন, প্রক্রিয়াকরণ বা পরিবহণ ব্যয়।

বিমা প্রিমিয়াম

ভূমি, ফসল বা গবাদিপশু পালনের ক্ষতিপূরণে পরিশোধযোগ্য বিমা প্রিমিয়াম।

দুর্যোগ সুরক্ষা ব্যয়

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য ক্ষতি হইতে কৃষি রক্ষার্থে ব্যয়িত অর্থ।

তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী বিয়োজন
  • সম্পদের অবচয়
  • স্পর্শাতীত সম্পদের অ্যামোর্টাইজেশন
পশুর মৃত্যু বা অক্ষমতা

করদাতার কৃষিকাজে ব্যবহৃত পশুর মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়লব্ধ অর্থের পার্থক্য।

সরকারি ডেলিগেশন ব্যয়

সরকার স্পন্সরকৃত কৃষি সম্পর্কিত ডেলিগেশনের বিদেশ সফর ব্যয় (মূলধনি নয়)।

প্রশিক্ষণ ব্যয়

বোর্ড অনুমোদিত স্কিম অনুযায়ী কৃষি সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যয়।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা ব্যয়

করদাতার কৃষির উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশে পরিচালিত কৃষি সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নির্বাহকৃত ব্যয়।

39

ধারা ৪৩

হিসাববহি রক্ষণাবেক্ষণ না করিবার ক্ষেত্রে বিশেষ বিয়োজন পরিগণনা

(১) প্রযোজ্য ক্ষেত্রসমূহ

নিয়মিত হিসাবরক্ষণ না করা

করদাতা নিয়মিত হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করিতেছেন না।

অপর্যাপ্ত পদ্ধতি

এইরূপ পদ্ধতি প্রয়োগ যাহার ভিত্তিতে আয় নির্ধারণ সম্ভব নয়।

রেকর্ড সংরক্ষণে ব্যর্থতা

হিসাব বা লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করিতে ব্যর্থ।

যাচাইযোগ্য নয়

সংরক্ষিত হিসাব বা রেকর্ড যাচাইযোগ্য নয়।

📊

৬০% সংবিধিবদ্ধ বিয়োজন

উৎপাদিত কৃষি পণ্যের বাজার মূল্যের

অনুমোদিত ব্যয় হিসাবে গণ্য হইবে

(২) ব্যতিক্রম

যেইক্ষেত্রে ভূমি বা আঙ্গিনার মালিক আধি, বর্গা, ভাগা বা অংশহারে কৃষি হইতে আয় প্রাপ্ত হন, সেইক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না।

40

ধারা ৪৪

কতিপয় ক্ষেত্রে বিয়োজন অনুমোদিত হইবে না

⚠️

(১) উৎসে কর কর্তন / সংগ্রহ শর্ত

উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ প্রযোজ্য হইলে, অংশ ৭ এর বিধানাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ না করিলে এই অধ্যায়ের অধীন দাবিকৃত বিয়োজন অনুমোদিত হইবে না।

📋

(২) ধারা ৫৫ এর প্রয়োগ

ধারা ৫৫ এ বর্ণিত অননুমোদিত ব্যয়ের বিধানাবলি এই অধ্যায়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে, যেন বিধানাবলি এই অধ্যায়ের সহিত সম্পর্কিত।

💡

গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • উৎসে কর: সকল পেমেন্টের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন/সংগ্রহের বিধি অনুসরণ আবশ্যক।
  • অননুমোদিত ব্যয়: ব্যবসায়িক আয়ের মতোই কৃষি আয়েও ধারা ৫৫ প্রযোজ্য।
🚫

বিধিনিষেধ মেনে চলুন

সঠিক কর পরিশোধ ও রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করুন

41

কৃষি হইতে আয় অধ্যায়

সারসংক্ষেপ

📋 মূল বিধানসমূহ

  • • কৃষি সম্পর্কিত কার্যাবলি হইতে আয়
  • • চা ও রাবার: ৬০% কৃষি + ৪০% ব্যবসা
  • • কৃষি কার্যক্রমের বিস্তৃত সংজ্ঞা
  • • পরিসম্পদ বিক্রয় ও ক্ষতিপূরণের বিধান

💰 অনুমোদিত বিয়োজন

  • • ভূমি কর, খাজনা ও ভাড়া
  • • ঋণের সুদ / মুনাফা
  • • যন্ত্রপাতি ও গবাদিপশুর খরচ
  • • বিমা প্রিমিয়াম ও দুর্যোগ সুরক্ষা
  • • অবচয় ও অ্যামোর্টাইজেশন
  • • গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ব্যয়

📊 বিশেষ বিধান

  • • হিসাব না রাখলে: ৬০% সংবিধিবদ্ধ বিয়োজন
  • • আধি / বর্গা চাষীদের ব্যতিক্রম
  • • অননুমোদিত ব্যয় = বিশেষ কৃষি আয়

🚫 বিধিনিষেধ

  • • উৎসে কর কর্তন / সংগ্রহ বাধ্যতামূলক
  • • ধারা ৫৫ এর অননুমোদিত ব্যয়ের প্রয়োগ
  • • মূলধনি ও ব্যক্তিগত ব্যয় অনুমোদিত নয়
🌾

কৃষি আয় অধ্যায় সমাপ্ত

সম্পূর্ণ বিধান ও নিয়মকানুন সংক্ষেপে উপস্থাপিত

42

ব্যবসা হইতে আয়

43

পঞ্চম অধ্যায়

ব্যবসা হইতে আয়

৪৫

ব্যবসা হইতে আয়ের ধরন

করদাতার নিম্নলিখিত আয়সমূহ “ব্যবসা হইতে আয়” হিসাবে গণ্য হইবে:

(ক) ব্যবসায়িক লাভ ও মুনাফা

করদাতার পরিচালিত বা পরিচালিত বলিয়া গণ্য কোনো ব্যবসা হইতে অর্জিত লাভ ও মুনাফা।

(খ) পেশাজীবী সংগঠনের আয়

কোনো পেশাজীবী সংগঠন কর্তৃক সদস্যদের সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত আয়।

(গ) ব্যবসায়িক সম্পর্কের সুবিধা

ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে প্রাপ্ত কোনো অ-নগদ সুবিধার বাজারমূল্য (perquisite বা incentive)।

(ঘ) ব্যবস্থাপনা ফি

ব্যবস্থাপনা কোম্পানি বা এজেন্সি কর্তৃক সেবা প্রদানের বিনিময়ে প্রাপ্ত ফি বা পারিশ্রমিক।

💡 ব্যাখ্যা:

ব্যবসা হইতে আয় অন্তর্ভুক্ত করে সকল লাভজনক কার্যক্রম যেমন উৎপাদন, বাণিজ্য, সেবা, পরামর্শ, এবং ব্যবসা সম্পর্কিত অন্যান্য নিয়মিত কার্যাবলি।

44

ব্যবসায়িক পরিসম্পদ বিক্রয় ও বিমা আয়

(দ্বিতীয় অংশ)

(২) ব্যবসায়িক পরিসম্পদ বিক্রয়

করদাতার ব্যবসায় ব্যবহৃত কোনো পরিসম্পদ বিক্রয় করা হইলে, নিম্নলিখিত নিয়মে আয় নির্ধারণ করা হইবে:

ক্রমিক অবস্থা আয়ের ধরন
১। বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি অর্জনমূল্যের বেশি হয় মূলধনি আয়
২। বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি অর্জনমূল্যের কম কিন্তু অবলোপিত মূল্যের বেশি হয় ব্যবসা হইতে আয়

(৩) বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ

কোনো ব্যবসায়িক পরিসম্পদ ধ্বংস, ক্ষতি বা নিশ্চিহ্ন হইলে, প্রাপ্ত বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণের অর্থ যদি অবলোপিত মূল্যের বেশি হয়, তবে সেই অতিরিক্ত অংশ উক্ত আয়বর্ষে করযোগ্য “ব্যবসা হইতে আয়” হিসাবে গণ্য হইবে।

🏛️ এই ধারা ব্যবসায়িক সম্পদের বিক্রয়বিমা আয় এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

45

সূত্র, ক্ষতির বিধান ও অন্যান্য আয়

(তৃতীয় অংশ)

(৪)-(৫) সূত্রের ব্যাখ্যা ও ক্ষতির ক্ষেত্রে

ক = বিক্রয়লব্ধ অর্থ

খ = অর্জন মূল্য

গ = অবলোপিত মূল্য

ক্ষতির ক্ষেত্রে:

বিক্রয়লব্ধ অর্থ ও অবলোপিত মূল্যের পার্থক্য ঋণাত্মক হইলে, ফলাফল ‘ব্যবসা হইতে আয়’ খাতে ব্যয় হিসাবে গণ্য হইবে।

(৬)-(৯) অন্যান্য বিধান

  • রপ্তানি কোটা হস্তান্তর বাবদ প্রাপ্ত অর্থ ব্যবসা হইতে আয়।
  • ট্রেডিং দায় পরিশোধ না হলে সেটি আয় হিসাবে ধরা হবে।
  • লোকসান বা কুঋণ পুনরুদ্ধার কৃত অর্থও আয় হিসাবে গণ্য হবে।
46

কতিপয় ব্যবসায়ের মুনাফা পরিগণনা

(বিশেষ ব্যবসা সম্পর্কিত বিধান)

৪৭। কতিপয় ব্যবসায়ের মুনাফা পরিগণনা

নিম্নবর্ণিত সারণির কলাম (২)-এ উল্লিখিত ব্যবসার মুনাফা সারণির কলাম (৩)-এ বর্ণিত তফসিলের বিধান অনুসারে পরিগণনা করা হইবে —

ক্রমিক ব্যবসা তফসিল
১। বিমা ব্যবসা চতুর্থ তফসিল
২। প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তৈল বা অন্যান্য খনিজ উত্তোলন ও অনুসন্ধান পঞ্চম তফসিল

৪৮। ফটকা ব্যবসাকে পৃথকভাবে বিবেচনা

কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো ফটকা কারবার পরিচালিত হইলে, তাহা উক্ত ব্যক্তির অন্যান্য ব্যবসা হইতে পৃথক ও স্বতন্ত্র ব্যবসা হিসাবে বিবেচিত হইবে।

💼 এই ধারা বিশেষ ব্যবসার মুনাফা নির্ধারণে প্রযোজ্য।

47

ধারা ৪৯ — অনুমোদনযোগ্য সাধারণ বিয়োজনসমূহ

(১ম অংশ)

এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত ব্যয়সমূহ সাধারণ বিয়োজনের অন্তর্ভুক্ত হইবে —

(ক) কাঁচামাল, মজুদ ও ব্যবহারের পণ্য ক্রয় ব্যয় এবং অবলোপিত মজুদ ব্যয়
(খ) ব্যবসা উদ্দেশ্যে প্রদত্ত শুল্ক, পৌর কর, স্থানীয় কর, ভূমি উন্নয়ন কর বা সরকারি ফি
(গ) ব্যবসায় ব্যবহৃত ভূমি বা আঙ্গিনার ভাড়া ও সংরক্ষণ ব্যয়
(ঘ) চাকরি হইতে আয় হিসাবে পরিগণিত ব্যয় ও কল্যাণ ব্যয়
(ঙ) মেরামত ও সংরক্ষণ ব্যয়
(চ) কর্মীদের জন্য পরিশোধিত বিমা প্রিমিয়াম
(ছ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য পরিষেবা ব্যয়
(জ) পণ্য পরিবহণ, ক্লিয়ারিং ও ফরওয়ার্ডিং চার্জ
(ঝ) বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কমিশন, দালালি, ডিসকাউন্ট বা ওয়ারেন্টি ব্যয়
(ঞ) বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা ব্যয়
(ট) কর্মীদের প্রশিক্ষণ ব্যয়
(ঠ) বিক্রয় প্রতিনিধিদের সম্মেলন, হোটেল ও আবাসন ব্যয়

💡 নির্দেশনা:

সকল ব্যয় ব্যবসায়ের প্রকৃত কার্যক্রমের সাথে সম্পর্কিতপ্রমাণপত্রসহ হইতে হইবে।

48

ধারা ৪৯ — অনুমোদনযোগ্য সাধারণ বিয়োজনসমূহ

(২য় অংশ)

(ড) যাতায়াত ও ভ্রমণ বাবদ ব্যয়
(ঢ) ইন্টারনেট, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত ব্যয়
(ণ) আইনি, নিরীক্ষা ও অন্যান্য পেশাদারী সেবা ব্যয়
(ত) আপ্যায়ন ও অতিথিশালা সংক্রান্ত ব্যয়
(থ) বৈদেশিক মুদ্রার নগদায়িত বিনিময় ক্ষতি (তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী)
(দ) ক্লাব বা বাণিজ্যিক সমিতিতে প্রবেশ ফি বা চাঁদা বাবদ ব্যয়
(ধ) সরকার স্পন্সরকৃত ট্রেড ডেলিগেশনের সদস্য হিসাবে বিদেশ সফর ব্যয়
(ন) রয়্যালটি, কারিগরি ফি ও হেড অফিস ব্যয়
(প) শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী অংশগ্রহণ, কল্যাণ ও শ্রমিক ফাউন্ডেশন তহবিলে প্রদেয় অর্থ
(ফ) সম্পূর্ণ ও একান্তভাবে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে নির্বাহকৃত অন্যান্য ব্যয়

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ নোট

উপরোক্ত সকল বিয়োজন অবশ্যই সম্পূর্ণ ও একান্তভাবে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে নির্বাহকৃত হইতে হবে।
প্রতিটি ব্যয়ের যথাযথ প্রমাণপত্র, ভাউচার ও হিসাবরক্ষণ সংরক্ষণ করা করদাতার জন্য বাধ্যতামূলক।

49

ধারা ৫০ — বিশেষ বিয়োজনসমূহ

(১) অনুমোদিত ব্যয়সমূহ

(ক) সাধারণ অবচয় ভাতা
(খ) প্রারম্ভিক অবচয় ভাতা
(গ) ত্বরান্বিত অবচয় ভাতা
(ঘ) অ্যামোর্টাইজেশন ভাতা
(ঙ) গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়

(২) অবলোপিত মূল্য ও বিক্রয়লব্ধ অর্থের পার্থক্য

তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত কোনো পরিসম্পদ যদি কোনো আয়বর্ষে বিক্রয় করা হয় এবং সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ অবলোপিত মূল্য অপেক্ষা কম হয়, তাহা হইলে অবলোপিত মূল্য ও বিক্রয়লব্ধ অর্থের পার্থক্যের সমপরিমাণ অঙ্ক বিয়োজনযোগ্য হইবে।

(৩) কুঋণ ব্যয়

ধারা ৫১ অনুযায়ী অনুমোদিত কুঋণ ব্যয় ব্যবসা হইতে আয় গণনার ক্ষেত্রে বিয়োজিত হইবে।

(৪) সুদ ব্যয়

ধারা ৫২ ও ৫৩ অনুযায়ী অনুমোদিত সুদ ব্যয় ব্যবসা হইতে আয় গণনার ক্ষেত্রে বিয়োজনযোগ্য হইবে।

50

ধারা ৫১–৫২ — কুঋণ ব্যয় ও সুদ বা মুনাফার বিশেষ বিয়োজন

(একত্রিত ধারাসমূহ)

৫১। কুঋণ ব্যয় অনুমোদন

(১) অন্যান্য ক্ষেত্রে (ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি ব্যতীত)
  • (ক) কুঋণ বা অংশ অনাদায়ী হয়ে অবলোপিত হিসাবে প্রদর্শিত।
  • (খ) আদায়ের সকল যৌক্তিক পদক্ষেপ গৃহীত।
  • (গ) আয় নির্ধারণে পূর্বে আয় হিসাবে পরিগণিত।
(২) ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি
  • (ক) IAS/IFRS অনুযায়ী অবলোপন প্রদর্শিত।
  • (খ) আদায়ের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গৃহীত।
  • (গ) পূর্বে আয় হিসাবে গণ্য।

৫২। সুদ বা মুনাফার বিশেষ বিয়োজন

(১) ব্যবসায়িক সুদ বা মুনাফা

ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ধারকৃত মূলধনের উপর প্রদেয় সুদ বা মুনাফা বিয়োজনযোগ্য ব্যয় হিসাবে অনুমোদিত হইবে।

(২) ব্যবসার বাইরে ব্যবহারের ক্ষেত্রে

ধারকৃত অর্থ আংশিকভাবে ব্যবসার বাইরে ব্যবহৃত হইলে, কেবলমাত্র ব্যবসায়িক অংশের আনুপাতিক সুদ বা মুনাফা অনুমোদিত হইবে।

51

৫৩–৫৪। সুদ অনুমোদনের সীমা, সাধারণ শর্ত ও অনুমোদনযোগ্য নয় এমন বিয়োজন

(একত্রিত সারণি)

৫৩। সুদ অনুমোদনের বিশেষ সীমা

  • ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি ব্যতীত কোনো নিবাসী ব্যক্তি কর্তৃক সহযোগী প্রতিষ্ঠান বরাবর পরিশোধিত সুদ ব্যয় বোর্ড নির্ধারিত পদ্ধতি ও সীমা অনুযায়ী অনুমোদিত হবে।
  • যেকোনো আয়বর্ষে পরিশোধিত সুদ ১৫ (পনেরো) লক্ষ টাকা অতিক্রম না করলে, উপরের সীমাবিধান প্রযোজ্য হবে না।

৫৪। অনুমোদনের সাধারণ শর্ত

(১) একই সম্পদের জন্য একাধিক বিয়োজন নয়

যদি কোনো ব্যয় সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কোনো পরিসম্পদকে প্রতিনিধিত্ব করে, তাহলে একই আয়বর্ষে ওই পরিসম্পদ বাবদ আর কোনো বিয়োজন অনুমোদনযোগ্য হবে না।

(২) বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা

ধারা ৪৯ অনুযায়ী কোনো ব্যয় অনুমোদনের জন্য ব্যবসার উদ্দেশ্যে তা যুক্তিসঙ্গত হতে হবে। বিচারের সময় নিম্নোক্ত বিষয় বিবেচনা করা হবে:

  • ব্যয়টি আয়ের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কিনা;
  • ব্যয়টি রাজস্ব প্রকৃতির কিনা;
  • ব্যয়ের যৌক্তিকতা সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রমাণিত কিনা।
52

ধারা ৫৫ — অনুমোদনযোগ্য নয় এমন বিয়োজন

(১ম অংশ)

সাধারণভাবে অননুমোদনযোগ্য ব্যয়সমূহ

(ক) অংশ ৭ অনুযায়ী বিধানাবলি পরিপালন না করলে যেকোনো ব্যয়।
(খ) ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ কর্তৃক অংশীদার বা সদস্যকে প্রদত্ত সুদ, বেতন বা পারিতোষিক।
(গ) কোম্পানি কর্তৃক স্পন্সর/ডিরেক্টর শেয়ারহোল্ডারকে কমিশন বা ডিসকাউন্ট প্রদান।
(ঘ) পারকুইজিট বাবদ কর্মচারীকে প্রদত্ত ২০ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত অর্থ (মজুরি বোর্ড ব্যতিক্রম)।
(ঙ) রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি বা কারিগরি ফি বাবদ ব্যয় যেখানে টার্নওভারের ৬% অথবা নীট মুনাফার ১৫% (যেটি কম) অতিক্রম করে।

বিদেশি ব্যয় ও সীমাবদ্ধ বিয়োজনসমূহ

(চ) বিদেশি কোম্পানির হেড অফিস বা ইন্ট্রা-গ্রুপ ব্যয়, যদি নীট মুনাফার ১০% এর বেশি হয়।
(ছ) বিদেশ ভ্রমণ ব্যয় টার্নওভারের ০.৫% এর বেশি (সরকারি সেবা ব্যতিক্রম সাপেক্ষে)।
(জ) আপ্যায়ন ব্যয়: প্রথম ১০ লক্ষ টাকার ৪% এবং পরবর্তী টার্নওভারের ২% এর বেশি অংশ অননুমোদিত।
(ঝ) ফ্রি স্যাম্পল বিতরণ সীমা: ফার্মাসিউটিক্যাল ২%, খাদ্য ১%-০.২৫%, অন্যান্য ০.৫%-০.১%।
53

ধারা ৫৫ — অনুমোদনযোগ্য নয় এমন বিয়োজন

(২য় অংশ)

হিসাব, পরিশোধ ও সাধারণ সীমাবদ্ধ বিয়োজনসমূহ

(ই) অন্যান্য শিল্পে ফ্রি স্যাম্পল ব্যয়: টার্নওভারের ০.৫%, ০.২৫%, ০.১% সীমা অনুযায়ী।
(ঞ) বিজ্ঞাপন ব্যতীত প্রচারণামূলক ব্যয় টার্নওভারের ০.৫% এর বেশি।
(ট) ব্যাংকিং মাধ্যমে পরিশোধ না করা কর্মচারী পারিতোষিক।
(ঠ) ব্যাংকিং মাধ্যমে পরিশোধ না করা ভাড়া।
(ড) অন্যান্য ব্যয় যেখানে মোট পরিশোধের ৫০% এর বেশি ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যতীত; ওই অংশের ২৫% অননুমোদিত।
(ণ) রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ না থাকলে ধারা ২৬৪(৩) অনুযায়ী প্রদত্ত অর্থ।
(ত) মূলধনি বা ব্যক্তিগত ব্যয়।
(দ) সুস্পষ্টভাবে নিরূপিত নয় এমন বিয়োজন বা দায়।
(ন) Right of Use অবচয় ভাতা ও সুদ (IFRS অনুযায়ী), তবে ভাড়া, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ ব্যয় অনুমোদিত।
(প) অনুমোদন প্রাপ্ত নয় এমন তহবিলে প্রদত্ত অর্থ।
(ফ) নির্ধারিত পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণ না করলে প্রমাণকহীন খরচ।
54

ধারা ৫৬ — বিশেষ ব্যবসা আয় পরিগণনা

বিশেষ ব্যবসা আয়ের প্রধান উপাদানসমূহ

(১) ধারা ৫৫ এর দফা (ধ)(ন) ব্যতীত অন্যান্য অননুমোদিত সকল ব্যয় “বিশেষ ব্যবসা আয়” হিসাবে গণ্য হইবে।
(২) এই আয়ের বিপরীতে কোনো ব্যয়, লোকসানের সমন্বয় বা তৃতীয় তফসিলের অধীন কোনো ভাতা অনুমোদনযোগ্য নহে। উক্ত আয়ের উপর নিয়মিত করহার প্রযোজ্য হইবে।

ব্যতিক্রম: হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য করদাতার ক্ষেত্রে, ধারা ৫৫(ক) ব্যতীত এই আয়ের উপর হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য হইবে।

55

মূলধনি আয়

56

ধারা ৫৭ — মূলধনি আয়

সংজ্ঞা

মূলধনি পরিসম্পদের মালিকানা হস্তান্তর হইতে উদ্ভূত মুনাফা ও লাভ মূলধনি আয় হিসাবে গণ্য হইবে।

শর্ত

International Accounting Standards (IAS) বা IFRS অনুযায়ী ন্যায্য বাজারমূল্য পদ্ধতিতে কোনো পরিসম্পদ প্রকৃত অর্থে হস্তান্তরিত না হইলে, উহা হইতে উদ্ভূত ধারণাগত মুনাফা মূলধনি আয় হিসাবে গণ্য হইবে না।

57

ধারা ৫৮ — মূলধনি আয় পরিগণনা

(১) মূলধনি আয় হিসাব

কোনো ব্যক্তির মূলধনি আয় হইবে পরিসম্পদের উন্মুক্ত বাজারে বিক্রয় বা হস্তান্তর মূল্য এবং উক্ত পরিসম্পদের অর্জনমূল্যের পার্থক্য।

(২) সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা

উন্মুক্ত বাজারে বিক্রয় বা হস্তান্তর মূল্য

কোনো পরিসম্পদের উন্মুক্ত বাজারে বিক্রয় বা হস্তান্তর মূল্য হইবে ‘ক’‘খ’ এর মধ্যে যাহা অধিক —

ক্রম বিবরণ
হস্তান্তর হইতে প্রাপ্ত বা উপচিত অর্থ
হস্তান্তরের তারিখে পরিসম্পদের ন্যায্য বাজারমূল্য
পরিসম্পদের অর্জনমূল্য
  • পরিসম্পদের স্বত্ব হস্তান্তরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত খরচ
  • পরিসম্পদের ক্রয়মূল্য
  • ধারা ৩৮, ৪২, ৪৯, ৫০ বা ৬৪ অনুযায়ী অনুমোদিত খরচ বাদে উন্নয়ন ব্যয়
58

ধারা ৫৯ — পরিগণনার সময়

নিয়ম

মূলধনি পরিসম্পদের হস্তান্তর হইতে উদ্ভূত আয় যেই আয়বর্ষে হস্তান্তর সংঘটিত হইয়াছে, সেই আয়বর্ষেই উহা অন্তর্ভুক্ত হইবে।

59

বিয়োজন অনুমোদনের সীমাবদ্ধতা ও মূলধনি আয় নির্ধারণে অন্যান্য বিষয়াবলি

(ধারা ৬০ – ৬১)

বিয়োজন অনুমোদনের সীমাবদ্ধতা

উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য এমন কোনো ব্যয়ের ক্ষেত্রে, যদি উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা না হয় এবং যথাযথভাবে পরিশোধ করা না হয়, তবে সেই ব্যয় এই অধ্যায়ের অধীন অনুমোদনযোগ্য বিয়োজন হিসাবে গণ্য হবে না।

(১) ন্যায্য বাজার মূল্য নির্ধারণ

করদাতা ঘোষিত বিক্রয় মূল্যের তুলনায় ১৫% বা তার বেশি হলে, পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে উপকর কমিশনার পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য নির্ধারণ করতে পারেন।

(২) ঘোষিত অর্জন মূল্যের তুলনা

ঘোষিত অর্জন মূল্যের তুলনায় ন্যায্য বাজার মূল্য ২৫% বা তার বেশি হলে, বোর্ড নির্ধারিত পদ্ধতিতে উপকর কমিশনার উক্ত পরিসম্পদ ঘোষিত অর্জন মূল্যে ক্রয় করার প্রস্তাব দিতে পারেন।

(৩) নতুন কোম্পানিতে হস্তান্তর

কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত নতুন কোনো কোম্পানিতে অংশীদারি ফার্মের সব পরিসম্পদ হস্তান্তরের ফলে উদ্ভূত মূলধনি আয় করমুক্ত থাকবে, যদি বিনিময় মূল্য নতুন কোম্পানি ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ করা হয়।

60

আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়

61

আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়

(ধারা ৬২)

(১) আয়ের উৎস

(ক) সরকারি বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সিকিউরিটিজের সুদ, মুনাফা বা বাট্টা
(খ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত ডিবেঞ্চার বা অন্যান্য সিকিউরিটির সুদ, মুনাফা বা বাট্টা
(গ) নিম্ন উৎস থেকে প্রাপ্য সুদ বা মুনাফা:
  • কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানিতে রক্ষিত আমানত
  • কোনো আর্থিক পরিসম্পদ, পণ্য বা স্কিম
  • লভ্যাংশ

(২) মূলধনি আয় ব্যতিক্রম

আর্থিক পরিসম্পদ হস্তান্তর হইতে অর্জিত মূলধনি আয় “আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়” শ্রেণিভুক্ত হবে না।

62

আয় পরিগণনার সময় ও অনুমোদনযোগ্য খরচ

(ধারা ৬৩ – ৬৪)

(১) আয় পরিগণনার সময়

যে আয়বর্ষে করদাতা আর্থিক পরিসম্পদ থেকে আয় লাভ করেন অথবা যে আয়বর্ষে সেই আয় তার হিসাবে জমা হয়— যেটি আগে ঘটে, সেই আয়বর্ষে উক্ত আয় অন্তর্ভুক্ত হবে।

(২) অনুমোদনযোগ্য খরচ

  • (ক) ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক সুদ/মুনাফা প্রদানের বিপরীতে আয়কর ব্যতীত কর্তনকৃত অর্থ
  • (খ) কেবল “আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়” অর্জনের উদ্দেশ্যে ঋণকৃত অর্থের উপর পরিশোধিত সুদ
  • (গ) সংশ্লিষ্ট আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে অন্য কোনো ব্যয় (দফা ক বা খ ছাড়া)
63

অনুমোদনযোগ্য নয় এমন খরচ ও অন্যান্য উৎস হইতে আয়

(ধারা ৬৫ – ৬৬)

অনুমোদনযোগ্য নয় এমন খরচ

  • (ক) বাংলাদেশের বাইরে পরিশোধযোগ্য এমন সুদের ব্যয়, যেখান থেকে কর কর্তন বা পরিশোধ করা হয়নি
  • (খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়ের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা কমিশন
  • (গ) মূলধনি বা ব্যক্তিগত প্রকৃতির ব্যয়
  • (ঘ) উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ প্রযোজ্য হলেও যথাযথভাবে কর কর্তন/সংগ্রহ ও পরিশোধ না করলে সেই ব্যয়

অন্যান্য উৎস হইতে আয়

  • (ক) রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, কারিগরি জ্ঞানের জন্য ফি এবং স্পর্শাতীত সম্পত্তির ব্যবহারের অধিকার প্রদান
  • (খ) সরকার প্রদত্ত নগদ ভর্তুকি
  • (গ) খনিজ মজুদ ও হাইড্রোকার্বন এবং সুনাম ব্যতীত অন্যান্য প্রাকৃতিক বা সৃষ্ট পরিসম্পদ হস্তান্তর থেকে আয়
  • (ঘ) যেকোনো দান, অনুদান বা উপহার
  • (ঙ) গোষ্ঠী বীমা পলিসি থেকে কর্মচারীর প্রাপ্ত অর্থ বা সুবিধা
  • (চ) ধারা ৩০ এর (ক)-(চ) এর বাইরে থাকা অন্য কোনো উৎস হইতে আয়
64

অন্যান্য উৎস হইতে আয়

বিশেষ ক্ষেত্র (অজানা ক্রেডিট, তহবিল, বাজার মূল্য

65

অন্যান্য উৎস হইতে আয় – বিশেষ ক্ষেত্র

(ধারা ৬৭: দফা ২–৪)

(২) অজানা ক্রেডিট

করদাতার হিসাব বা দলিলে কোনো অজানা অঙ্ক জমা থাকিলে এবং তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে, সেই অঙ্ক “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” হিসাবে গণ্য হবে।

(৩) তহবিল ও ব্যয়ের পার্থক্য

করদাতা যদি সম্পদ অর্জন, ঋণ গ্রহণ বা ব্যয় করেন এবং (ক+খ+গ) > (ঘ+ঙ+চ) হয়, তাহলে পার্থক্য অংশ “অন্যান্য উৎস” আয় হবে।

  • ক = নীট পরিসম্পদ বৃদ্ধি
  • খ = প্রকৃত খরচ
  • গ = অন্যান্য তহবিল ব্যয়
  • ঘ = মোট নিরূপিত আয়
  • ঙ = নিরূপিত কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আয়
  • চ = তহবিলের অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রাপ্তি

(৪) বাজার মূল্যের কমে ক্রয়

ব্যবসার মজুদ বা আর্থিক সম্পদ ছাড়া কোনো পরিসম্পদ ন্যায্য বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে ক্রয় করলে পার্থক্য অংশ “অন্যান্য উৎস” আয় হবে।

66

অন্যান্য উৎস হইতে আয় – বিশেষ ক্ষেত্র (চুক্তি ও ঋণ)

(ধারা ৬৭: দফা ৫–৮)

(৫) চুক্তি রদ বা সংশোধন

চুক্তি বাতিল, রদ বা শর্ত পরিবর্তনের কারণে প্রাপ্ত ফি, কমিশন, ক্ষতিপূরণ বা সুনামমূল্য সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে “অন্যান্য উৎস” আয় হবে।

(৬) লিজ বা ভাড়া

লিজ/ভাড়ার মাধ্যমে সেলামী বা প্রিমিয়াম আকারে এককালীন অর্থ প্রাপ্ত হলে তা সেই আয়বর্ষে “অন্যান্য উৎস” আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হবে।

(৭) উৎসে কর কর্তন না করলে

পরিসম্পদ ক্রয়ের সময় উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ না করলে, পরিশোধিত অর্থ উক্ত আয়বর্ষে “অন্যান্য উৎস” আয় হিসেবে ধরা হবে।

(৮) ঋণের দায় মওকুফ

কোনো ঋণ মওকুফের ফলে প্রাপ্ত লাভ বা সুবিধা “অন্যান্য উৎস” আয় হিসাবে গণ্য হবে, তবে ব্যতিক্রম:

  • তফসিলি ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক সাধারণ ব্যক্তির ঋণ/সুদ মওকুফ
  • স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনকৃত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের জন্য মার্জিন লোনের মওকুফ (১০ লক্ষ টাকার মধ্যে)
67

অন্যান্য উৎস হইতে আয় – অন্যান্য বিশেষ ক্ষেত্র

(ধারা ৬৭: দফা ৯–১৫)

(৯) লটারি ও গেমস

লটারি, শব্দজট, কার্ড গেম, অনলাইন গেম বা অনুরূপ খেলায় জয় লাভের অর্থ “অন্যান্য উৎস” আয়।

(১০–১৫) অন্যান্য বিশেষ ক্ষেত্র

  • (১০) ব্যাংক ট্রান্সফার ছাড়া নগদ মূলধন গ্রহণ করলে “অন্যান্য উৎস” আয়।
  • (১১) ব্যাংক ট্রান্সফার ছাড়া প্রাপ্ত অগ্রিম, ঋণ বা ডিপোজিট “অন্যান্য উৎস” আয়; পরবর্তী বছর ফেরত দিলে বাদ যাবে।
  • (১২) কোম্পানির গাড়ি ক্রয়মূল্য যদি মূলধনের ১০% ছাড়ায়, অতিরিক্ত অংশের ৫০% আয় গণ্য হবে।
  • (১৩) স্বাভাবিক ব্যক্তি অন্যের নিকট হতে ৫ লক্ষ টাকার বেশি নগদ পেলে (ব্যাংক ছাড়া) আয় গণ্য হবে; নিকট আত্মীয় বা ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত ব্যতিক্রম।
  • (১৪) নির্মাণ সামগ্রী বাকিতে ক্রয় করে ২ বছরেও দাম না দিলে তৃতীয় বছরে “অন্যান্য উৎস” আয়।
  • (১৫) সংশোধিত রিটার্নে কর অব্যাহতি আয় ও মূল রিটার্নের পার্থক্য “অন্যান্য উৎস” আয়।
68

অনুমোদনযোগ্য ও অনুমোদনযোগ্য নয় এমন বিয়োজন

(ধারা ৬৮ – ৬৯)

অনুমোদনযোগ্য বিয়োজন

  • (১) সংশ্লিষ্ট আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যয়; মূলধনি বা ব্যক্তিগত ব্যয় নয়।
  • (২) ধারা ৬৭ এর উপধারা (৫) ও (৬) ব্যতীত অন্যান্য উপধারার অধীন আয় পরিগণনায় কোনো প্রকার ব্যয় অনুমোদিত নয়।
  • (৩) খরচ অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা বিবেচিত হবে।

অনুমোদনযোগ্য নয় এমন বিয়োজন

  • (১) এই অধ্যায়ের অধীন কোনো সম্পদের বিপরীতে একবার অনুমোদিত খরচ পুনরায় একই সম্পদের জন্য অনুমোদিত হবে না।
  • (২) ধারা ৫৫-এ বর্ণিত সীমাবদ্ধতা এই অধ্যায়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
69

কর অব্যাহতি

(ধারা ৭৬ : দফা ৫ – ৭)

অংশ ৬ : অব্যাহতি, বাদ ও কর অবকাশ — প্রথম অধ্যায় : অব্যাহতি, হ্রাস ও বাদ

(৫) রিটার্ন দাখিল ব্যর্থতা

ধারা ১৬৬ ও ১৭১ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে কর অব্যাহতি প্রযোজ্য হবে না। তবে ষষ্ঠ তফসিল অংশ ১ এর নির্দিষ্ট দফা ও চাকরি-সংক্রান্ত কর অব্যাহতির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য নয়।

(৬) পুনরায় অব্যাহতি নয়

নির্দিষ্ট মেয়াদে কর অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তি পুনরায় অথবা অন্যভাবে একই উৎসে অব্যাহতি পাবেন না। একীভূতকরণ, ডিমার্জার বা অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও অব্যাহতি পুনরুদ্ধার হবে না; তবে মেয়াদ বৃদ্ধি হলে প্রযোজ্য নয়।

(৭) কর অব্যাহতি ও অননুমোদিত ব্যয়

অব্যাহতি-প্রাপ্ত উৎসের আয় গণনায়, ধারা ৫৫ অনুসারে অননুমোদিত ব্যয়ের উপর ধারা ৫৬ অনুসারে কর প্রযোজ্য হবে।

70

কর অব্যাহতি

অব্যাহতি, বাদ ও কর অবকাশ

71

মোট আয় হইতে বাদ

(ধারা ৭৭)

অংশ ৬ : অব্যাহতি, বাদ ও কর অবকাশ — প্রথম অধ্যায় : অব্যাহতি, হ্রাস ও বাদ

(১) ষষ্ঠ তফসিল অংশ ১ এর আয়

এই অংশে উল্লিখিত ব্যক্তির আয় মোট আয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না, তবে তহবিলের উৎস নিরূপণে অন্তর্ভুক্ত হবে।
শর্ত:

  • রিটার্নে যথাযথভাবে আয় দেখাতে হবে।
  • আয়ের উৎস ও পরিমাণের বিবরণ রিটার্নের সাথে দিতে হবে।

(২) অনুদান বাবদ বাদ

ষষ্ঠ তফসিল অংশ ২ অনুসারে প্রদত্ত অনুদান করদায় থেকে বাদ দেওয়া হবে, যদি:

  • রিটার্নে অনুদান প্রতিফলিত হয়;
  • অনুদান পূর্ববর্তী মোট আয়ের ১০% এর বেশি না হয়;
  • রিটার্নে আয়ের উৎস ও পরিমাণ বিস্তারিতভাবে দাখিল করা হয়।
72

সাধারণ কর রেয়াত

রেয়াতের সূত্র ও ব্যাখ্যা

73

সাধারণ কর রেয়াত

(ধারা ৭৮)

অংশ ৬ : অব্যাহতি, বাদ ও কর অবকাশ — প্রথম অধ্যায় : অব্যাহতি, হ্রাস ও বাদ

নিবাসী স্বাভাবিক ব্যক্তি ও অনিবাসী বাংলাদেশি স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা, যদি ষষ্ঠ তফসিল অংশ ৩-এ নির্ধারিত সীমা ও শর্ত পূরণ করেন, তবে নিম্নের যেকোনো একটির মধ্যে সর্বনিম্ন অঙ্কের কর রেয়াত পাবেন:

  • ০.০৩ × ‘ক’
  • ০.১৫ × ‘খ’
  • ১০ লক্ষ টাকা

‘ক’ = কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আয়, হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য আয়, অংশীদারি ফার্ম/ব্যক্তিসংঘ থেকে প্রাপ্ত শেয়ার আয় ও চূড়ান্ত করদায় প্রযোজ্য আয় বাদ দিয়ে পরিগণিত মোট আয়।

‘খ’ = আয়বর্ষে ষষ্ঠ তফসিল অংশ ৩ অনুসারে করদাতার মোট বিনিয়োগ ও ব্যয়ের পরিমাণ।

74

অগ্রিম আয়কর পরিশোধ

75

১৫৩। মোটরযান মালিকগণের নিকট হইতে অগ্রিম কর সংগ্রহ

(ধারা ১৫৩, উপ-ধারা ১)

(১) মোটরযানের মালিকের দায়

প্রত্যেক মোটরযানের মালিকের জন্য ধরে নেওয়া হবে যে, তিনি উক্ত মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আয় অর্জন করেন এবং নির্ধারিত হারে ও পদ্ধতিতে অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করবেন।

76

১৫৩। অগ্রিম করের হার

(সারণী)

মোটরযানের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের সময় নিচের সারণি অনুযায়ী অগ্রিম কর প্রদান করতে হবে।

ক্রমিক গাড়ির ধরন ও ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি অগ্রিম কর (টাকা)
১। ১৫০০ সিসি বা ৭৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত ২৫,০০০
২। ১৫০০–২০০০ সিসি বা ৭৫–১০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৫০,০০০
৩। ২০০০–২৫০০ সিসি বা ১০০–১২৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৭৫,০০০
৪। ২৫০০–৩০০০ সিসি বা ১২৫–১৫০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ১,২৫,০০০
৫। ৩০০০–৩৫০০ সিসি বা ১৫০–১৭৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত ১,৫০,০০০
৬। ৩৫০০ সিসির উপরে ২,০০,০০০
৭। মাইক্রোবাস (প্রতি ইউনিট) ৩০,০০০

শর্ত: কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি একাধিক গাড়ির মালিক হলে, দ্বিতীয় ও পরবর্তী প্রতিটি গাড়ির জন্য ৫০% বেশি হারে কর দিতে হবে।

77

অগ্রিম কর

অগ্রিম করের পরিমাণ ও কিস্তি

78

১৫৫। অগ্রিম করের পরিমাণ ও কিস্তি

(ধারা ১৫৫)

(১) ন্যূনতম অগ্রিম কর

সর্বশেষ আয়বর্ষে নির্ধারিত করদায় (ক) থেকে উৎসে কাটা বা পূর্বে পরিশোধিত অগ্রিম কর (খ) বাদ দিলে যে পরিমাণ থাকে, সেটাই ন্যূনতম অগ্রিম কর।

(২) কিস্তি ও তারিখ

তারিখ পরিশোধের হার
১৫ সেপ্টেম্বর ২৫%
১৫ ডিসেম্বর ২৫%
১৫ মার্চ ২৫%
১৫ জুন ২৫%

নোট: যদি নির্ধারিত তারিখ সরকারি ছুটি হয়, তবে পরবর্তী কর্মদিবসে কিস্তি প্রদান করা যাবে।

(৩)-(৫) অন্যান্য বিধান

কোনো কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে বকেয়া অর্থ পরবর্তী কিস্তির সাথে যোগ হবে। করদাতা যদি প্রাক্কলন করেন যে নির্ধারিত করদায় অপেক্ষা করের পরিমাণ কম হবে, তিনি উপকর কমিশনারকে লিখিত প্রাক্কলন দাখিল করে কিস্তি সমন্বয় করতে পারেন।

79

নূতন করদাতা, কিস্তি ব্যর্থতা, ক্রেডিট ও ব্যাখ্যা

80

১৫৬-১৫৯। নূতন করদাতা, কিস্তি ব্যর্থতা, ক্রেডিট ও ব্যাখ্যা

(ধারা ১৫৬-১৫৯)

১৫৬। নূতন করদাতা কর্তৃক অগ্রিম কর

যেসব ব্যক্তি আগের করবর্ষে কর নির্ধারণের আওতায় ছিলেন না, এবং চলমান আয়বর্ষে মোট আয় ৬ লক্ষ টাকার বেশি হবে বলে অনুমান, তারা ১৫ জুনের আগে প্রাক্কলিত মোট আয় ও পরিশোধযোগ্য অগ্রিম কর উপকর কমিশনারের কাছে দাখিল করবেন এবং ধারা ১৫৫ অনুযায়ী কিস্তিতে পরিশোধ করবেন।

১৫৭। কিস্তি প্রদানে ব্যর্থতা

নির্ধারিত তারিখে অগ্রিম করের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে করদাতা খেলাপি হিসেবে গণ্য হবেন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে।

১৫৮। অগ্রিম করের ক্রেডিট

জরিমানা বা সুদ ব্যতীত অগ্রিম কর হিসাবে পরিশোধিত অর্থ সেই সময়ের জন্য অর্জিত আয়ের উপর পরিশোধিত কর হিসেবে গণ্য হবে এবং নির্ধারিত করদায় থেকে বাদ দেওয়া হবে।

১৫৯। ব্যাখ্যা

“সর্বশেষ আয়বর্ষ নির্ধারিত” অর্থ:

  • যে করদাতার পূর্বে কর নির্ধারণ করা হয়েছে, তার জন্য সর্বশেষ আয়বর্ষে নির্ধারিত আয়।
  • যে করদাতার পূর্বে কর নির্ধারণ করা হয়নি, তার জন্য সর্বাধিক সাম্প্রতিক আয়বর্ষে নির্ধারিত আয়।
81

ন্যূনতম কর

ন্যূনতম কর প্রযোজ্য আয়ের উৎস

82

ন্যূনতম কর প্রযোজ্য আয়ের উৎস

(ধারা ৮৮–১০১)

নিচে প্রথমাংশে ন্যূনতম কর প্রযোজ্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস ও সংশ্লিষ্ট কর ধারাসমূহ দেওয়া হলো।

ধারা আয়ের উৎস ধারা আয়ের উৎস
৮৮ অংশগ্রহণ, কল্যাণ ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে প্রদত্ত অর্থ ৮৯ ঠিকাদার ও সরবরাহকারীর অর্থ হতে কর কর্তন
৯০ সেবার ক্ষেত্রে পরিশোধ হতে কর কর্তন ৯১ স্পর্শাতীত সম্পত্তির অর্থ হতে কর কর্তন
৯২ প্রচার মাধ্যমের বিজ্ঞাপন আয় ৯৪ কমিশন, ডিসকাউন্ট, ফি ইত্যাদি হইতে কর কর্তন
৯৫ ট্রাভেল এজেন্টদের অর্থ হতে কর সংগ্রহ ১০০ বীমা কমিশনের অর্থ হতে কর কর্তন
১০১ সাধারণ বীমা কোম্পানির জরিপকারীদের ফি ইত্যাদি ১০২ সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানতের সুদ
83

ন্যূনতম কর প্রযোজ্য আয়ের উৎস

(ধারা ১০৬–১২৩)

দ্বিতীয়াংশে আরও কিছু আয় উৎস ও সংশ্লিষ্ট কর ধারাসমূহ দেওয়া হলো, যেগুলোতে ন্যূনতম কর প্রযোজ্য।

ধারা আয়ের উৎস ধারা আয়ের উৎস
১০৬ কর্তন সিকিউরিটিজের সুদ ১০৮ আন্তর্জাতিক ফোন কলের আয়
১১০ কনভেনশন হল বা কনফারেন্স সেন্টারের সেবা আয় ১১২ নগদ রপ্তানি ভর্তুকির উপর কর কর্তন
১১৩ পরিবহন মাশুল ও ফরওয়ার্ড এজেন্সি কমিশন ১১৪ বিদ্যুৎ ক্রয়ের বিপরীতে কর কর্তন
১১৫ রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের ভূমি মালিক থেকে প্রাপ্ত আয় ১১৬ বিদেশী ক্রেতার এজেন্টকে কমিশন/পারিশ্রমিক
১১৭ লভ্যাংশ হইতে কর কর্তন ১২৩ রপ্তানি আয় হইতে কর সংগ্রহ
84

ন্যূনতম কর প্রযোজ্য আয়ের উৎস

(ধারা ১২৪–১৩৯)

শেষাংশে (তৃতীয় অংশ) অবশিষ্ট কর ধারাসমূহ এবং তাদের আয়ের উৎস নিচে প্রদান করা হলো।

ধারা আয়ের উৎস ধারা আয়ের উৎস
১২৪ বিদেশ হইতে প্রেরিত সেবা/রেভিনিউ শেয়ারিং আয় ১২৬ রিয়েল এস্টেট/ভূমি উন্নয়নকারীদের নিকট হইতে কর সংগ্রহ
১২৭ সরকারি স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি বাবদ কমিশন ১২৮ সম্পত্তির ইজারা হইতে কর সংগ্রহ
১২৯ সিগারেট উৎপাদনকারীদের নিকট হইতে কর সংগ্রহ ১৩২ নিবাসী জাহাজ ব্যবসা হইতে কর সংগ্রহ
১৩৩ প্রকাশ্য নিলামের বিক্রয় হইতে কর সংগ্রহ ১৩৪ শেয়ার হস্তান্তর হইতে কর সংগ্রহ
১৩৫ সিকিউরিটিজ হস্তান্তর হইতে কর সংগ্রহ ১৩৬ স্টক এক্সচেঞ্জ শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার স্থানান্তর
১৩৭ স্টক এক্সচেঞ্জ সদস্যদের নিকট হইতে কর সংগ্রহ ১৩৮ বাণিজ্যিক মোটরযান হইতে কর সংগ্রহ
১৩৯ নৌযান পরিচালনা হইতে কর সংগ্রহ
85

চূড়ান্ত কর

চূড়ান্ত কর প্রযোজ্য আয়ের উৎস

86

চূড়ান্ত কর প্রযোজ্য আয়ের উৎস

(Final Tax Applicable Sources)

নিম্নে এমন কিছু আয়ের উৎস উল্লেখ করা হলো, যেগুলোর ক্ষেত্রে উৎসে কর্তিত করই চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য হয়।

ধারা আয়ের উৎস
১০৫ সঞ্চয় পত্রের মুনাফা হইতে কর কর্তন
১১১ সম্পত্তি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ হইতে উৎসে কর কর্তন
১১২ নগদ রপ্তানি ভর্তুকির উপর উৎসে কর কর্তন
১২৫ সম্পত্তি হস্তান্তর, ইত্যাদি হইতে কর সংগ্রহ
87

কর অব্যাহতি, রেয়াত ও ক্রেডিট

ষষ্ঠ তফসিল

88

ষষ্ঠ তফসিল: কর অব্যাহতি, রেয়াত ও ক্রেডিট

অংশ ১: মোট আয় পরিগণনা হইতে বাদ

১. আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কর্মচারীর আয়

আইন বা চুক্তির অধীন আয়কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আন্ত-সরকারি বা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও তাদের কর্মচারীদের আয় করমুক্ত।

২. বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কর্মচারীর পারিতোষিক

বৈদেশিক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, হাই কমিশনার ও তাঁদের অ-বাংলাদেশি স্টাফের বেতন নির্দিষ্ট শর্তে করমুক্ত।

৩. সরকারি অনুদান ও কর

সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত অনুদান এবং সব ধরনের কর, খাজনা ও শুল্ক আয় থেকে বাদ যাবে।

৪. সরকারি পেনশন

সরকারি পেনশন তহবিল থেকে প্রাপ্ত পেনশন ও বকেয়া পেনশন করমুক্ত।

৫. সরকারি আনুতোষিক

সরকারি আনুতোষিক তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রাপ্ত অর্থ করমুক্ত।

৬. স্বীকৃত তহবিলে চাঁদা ও বণ্টন

স্বীকৃত ভবিষ্য, বার্ধক্য বা পেনশন তহবিলে চাঁদা এবং কররোপিত আয় থেকে বিতরণকৃত অংশ নির্দিষ্ট সীমায় করমুক্ত।

৭. ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫

এই আইনের অধীন ভবিষ্য তহবিলে উপচিত বা তহবিল থেকে উদ্ভূত আয় করমুক্ত।

89

ষষ্ঠ তফসিল: কর অব্যাহতি, রেয়াত ও ক্রেডিট

অংশ ১: মোট আয় পরিগণনা হইতে বাদ

৮. স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ

সরকার অনুমোদিত প্ল্যান অনুসারে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের সময় প্রাপ্ত অর্থ করমুক্ত।

৯. পেনশনারস সেভিংস সার্টিফিকেট

এই সার্টিফিকেটের সুদ করমুক্ত, যদি মোট বিনিয়োগ ৫ লক্ষ টাকার বেশি না হয়।

১০. স্বীকৃত তহবিল ও ট্রাস্ট

মিউচুয়াল ফান্ড, বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল, REIT, ETF ইত্যাদি সত্তার আয় করমুক্ত।

১১. দাতব্য/ধর্মীয় সম্পত্তির আয়

দাতব্য বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ধারণকৃত সম্পত্তি থেকে আয়, যদি বাংলাদেশে ব্যবহৃত হয় বা অনুমোদিতভাবে পুঞ্জীভূত হয়।

১২-১৩. দান ও মাইক্রোক্রেডিট সার্ভিস চার্জ

অনুমোদিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান ও মাইক্রোক্রেডিট কার্যক্রমের নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ করমুক্ত।

১৪-১৬. কর্মচারী ব্যয়, ট্রাস্ট আয়ের অংশ ও HUF বণ্টন

কর্মচারীর দায়িত্বপালনের ব্যয় পুনর্ভরণ, ট্রাস্টের করপরিশোধিত আয়ের অংশ এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের করপরিশোধিত বণ্টন আয় করমুক্ত।

90

ষষ্ঠ তফসিল: কর অব্যাহতি, রেয়াত ও ক্রেডিট

অংশ ১ — মোট আয় পরিগণনা হইতে বাদ (আইটেম ১৭–২০ক)

১৭. বিদেশে উপার্জিত আয়

বাংলাদেশি স্বাভাবিক ব্যক্তি কর্তৃক বিদেশে উপার্জিত ও বৈদেশিক রেমিটেন্স আইনে দেশে আনীত আয় করমুক্ত।

১৮. বৈদেশিক বন্ড আয়

ওয়েজ আর্নারস ডেভলপমেন্ট ফান্ড, ইউএস/ইউরো/পাউন্ড প্রিমিয়াম বা ইনভেস্টমেন্ট বন্ড হইতে গৃহীত আয় করমুক্ত।

১৯. পার্বত্য জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী

রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হইতে প্রাপ্ত আয় করমুক্ত।

২০. কৃষি আয়

স্বাভাবিক ব্যক্তির “কৃষি হইতে আয়” খাতে ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে আয় করমুক্ত, যদি অন্য কোনো আয়ের উৎস না থাকে।

২০ক. খামার ও খাদ্য উৎপাদন

হাঁস-মুরগি, চিংড়ি ও মাছের হ্যাচারী, পেলেটেড ফিড, দুগ্ধ, বীজ, রেশম, ব্যাঙ ইত্যাদি খামার আয় ≤ ৫ লক্ষ টাকা করমুক্ত।

91

ষষ্ঠ তফসিল: কর অব্যাহতি, রেয়াত ও ক্রেডিট

অংশ ১ — মোট আয় পরিগণনা হইতে বাদ (আইটেম ২৩–২৯)

২৩. পিএসসি (PSC) আয়

পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান কোম্পানির পক্ষে সরকারের পরিশোধিত কর করমুক্ত।

২৪. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প

  • নারীর মালিকানাধীন শিল্প: টার্নওভার ≤ ৭০ লক্ষ টাকা।
  • অন্যান্য শিল্প: টার্নওভার ≤ ৫০ লক্ষ টাকা।

২৫. জিরো কুপন বন্ড আয়

বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএসইসি অনুমোদিত জিরো কুপন বন্ড হইতে ব্যক্তিগত আয় করমুক্ত।

২৬. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়

  • এমপিওভুক্ত হতে হবে।
  • সরকার অনুমোদিত কারিকুলাম অনুসরণ করতে হবে।
  • সরকার অনুমোদিত পরিচালনা পরিষদ দ্বারা পরিচালিত হতে হবে।

২৭–২৯. অন্যান্য করমুক্ত আয়

  • (২৭) চাকরি হইতে আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা ৫ লক্ষ টাকা (যাহা কম)।
  • (২৮) সরকারি তহবিল বা পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অ-আর্থিক আয়।
  • (২৯) মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট বা সরকারি কল্যাণ ভাতা।
92

ষষ্ঠ তফসিল: কর অব্যাহতি, রেয়াত ও ক্রেডিট

অংশ ১ — মোট আয় পরিগণনা হইতে বাদ (আইটেম ৩০–৩৬)

৩০–৩০ক. পুরস্কার ও সম্মাননা

বাংলাদেশ সরকার বা বিদেশি সরকার, নোবেল, ম্যাগসেসে, বুকার, পুলিৎজার, একাডেমি, গ্রামি ইত্যাদি আন্তর্জাতিক পুরস্কার করমুক্ত।

৩১–৩২. বৃদ্ধাশ্রম ও করপরিশোধিত লভ্যাংশ

বৃদ্ধাশ্রম পরিচালনা হইতে আয় ও করপরিশোধিত লভ্যাংশ করমুক্ত, যদি পৃথক হিসাব সংরক্ষিত হয়।

৩৩–৩৪ক. জাহাজ আয় ও পেনশন

বাংলাদেশ পতাকাবাহী জাহাজ কর্তৃক বিদেশি আয় ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আয় করমুক্ত।

৩৫. পারিবারিক দান

স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন, মাতা-পিতা বা সন্তানের দান করমুক্ত, যদি দাতা ও গ্রহীতার রিটার্নে প্রদর্শিত হয়।

শর্ত: বিদেশ হইতে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রেরিত দানের ক্ষেত্রে দাতার রিটার্নে প্রদর্শনের শর্ত প্রযোজ্য নহে।

৩৬. মূলধনি আয়

অনধিক ৫০ লক্ষ টাকার মূলধনি আয় করমুক্ত, যদি তা তালিকাভুক্ত কোম্পানি/তহবিলের শেয়ার বা ইউনিট হস্তান্তর হইতে অর্জিত হয় এবং স্পনসর বা ডিরেক্টর শেয়ার না হয়।

93

অংশ ৩: সাধারণ কর রেয়াত

প্রযোজ্য বিনিয়োগ ও ব্যয়

প্রযোজ্যতা

এই অংশের বিধান নিবাসী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা এবং অনিবাসী বাংলাদেশি স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা—উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

১. জীবন বিমা ও Deferred Annuity

নিজের, স্বামী/স্ত্রী বা সন্তানের জন্য জীবন বিমা বা Deferred Annuity-এর প্রিমিয়াম (আয়ের ১০% পর্যন্ত) কর রেয়াতযোগ্য।

২. হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের জীবন বিমা

HUF কর্তৃক পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্য বা স্ত্রীর জীবন বিমা প্রিমিয়াম প্রদান; তবে বিদেশে প্রিমিয়াম পরিশোধিত হলে রেয়াত প্রযোজ্য নয়।

৩. সরকার কর্তৃক স্থগিত বৃত্তি/সুরক্ষার অর্থ

সরকার কর্তৃক বেতন থেকে কর্তন করা বার্ষিক বৃত্তি বা স্ত্রী/সন্তানের নিরাপত্তা তহবিল—বেতনের ২০% পর্যন্ত রেয়াতযোগ্য।

৪. Provident Fund চাঁদা

Provident Fund Act, 1925 এর আওতাভুক্ত তহবিলে করদাতার প্রদত্ত চাঁদা কর রেয়াতযোগ্য।

৫. ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা

দ্বিতীয় তফসিল অংশ ৩ অনুযায়ী সীমা সাপেক্ষে, ভবিষ্য তহবিলে করদাতা ও নিয়োগকর্তার প্রদত্ত চাঁদা কর রেয়াতযোগ্য।

৬. অনুমোদিত বার্ধক্য তহবিল

অনুমোদিত বার্ধক্য তহবিলে বার্ষিক সাধারণ চাঁদা বাবদ প্রদেয় অর্থ কর রেয়াতযোগ্য।

94

অংশ ৩: সাধারণ কর রেয়াত

বিনিয়োগ ও ব্যয় – আইটেম ৭–১৪

৭. বিভিন্ন বিনিয়োগ

  • সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ – সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা
  • মিউচুয়াল ফান্ড/ইটিএফ ইউনিটে বিনিয়োগ – সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা
  • DPS/মাসিক সঞ্চয় স্কিম – সর্বোচ্চ ১.২০ লক্ষ টাকা
  • সর্বজনীন পেনশন স্কিমে প্রদত্ত চাঁদা – সীমাবদ্ধতা ছাড়া

৮–১০. নতুন বিনিয়োগ ও দাতব্য দান

স্টক এক্সচেঞ্জে নতুন সিকিউরিটিজ বিনিয়োগ, বোর্ড অনুমোদিত দাতব্য হাসপাতাল ও প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংগঠনে অনুদান কর রেয়াতযোগ্য।

১১–১৪. যাকাত, কল্যাণ ও স্মৃতি প্রতিষ্ঠান

যাকাত তহবিল, কল্যাণ তহবিল, জনকল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি প্রতিষ্ঠানকে প্রদত্ত দান কর রেয়াতযোগ্য।

95

প্রজ্ঞাপন

96

পরিশিষ্ট–২৩: প্রজ্ঞাপন

(এস.আর.ও. নং-৪০৪-আইন/আয়কর-৫৭/২০২৪)

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (আয়কর)
তারিখ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ / ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রজ্ঞাপন নং: S.R.O. 404–আইন/আয়কর–৫৭/২০২৪

সংশোধিত বিধান

আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৪১ এর ক্ষমতাবলে ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ২ এর দফা (১)-এর পর নতুন দফা (ঙ) সংযোজন করা হয়েছে:

“(ঙ) জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন-এ দানকৃত আয়;”

শর্তাবলি

কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত করদাতারা আইনটির ধারা ৭৬(৫) ও ৭৬(৬)-এর বিধানাবলি যথাযথভাবে পালন করবেন।

কার্যকারিতা

প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং ৩০ জুন ২০২৯ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদেশক্রমে,

মোঃ আবদুর রহমান খান, এফসিএমএ

সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা।

97

পরিশিষ্ট–২৪: প্রজ্ঞাপন

(এস.আর.ও. নং ১৫০–আইন/আয়কর–০৫/২০২৫)

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (আয়কর)
তারিখ: ২৬ মে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ / ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রজ্ঞাপন নং: S.R.O. 150–আইন/আয়কর–০৫/২০২৫
আইন ও ক্ষমতা: আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৭৬(১) অনুসারে ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ৩, অনুচ্ছেদ ২, দফা (১৩)-এর আওতায় ঘোষণা।

জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানসমূহ

নিম্নবর্ণিত প্রতিষ্ঠানসমূহে স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা কর্তৃক প্রদত্ত দান বা অনুদান আয়কর রেয়াতের আওতায় আসবে —

  • বাংলাদেশ থ্যালাসিমিয়া ফাউন্ডেশন
  • মাস্তুল ফাউন্ডেশন
  • এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ
  • রোগীকল্যাণ সমিতি
  • বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থা
  • গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র
  • ঢাকা আহছানিয়া মিশন
  • Palliative Care Society of Bangladesh (PCSB)
  • আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশন

কার্যকারিতা

এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদেশক্রমে,

মোঃ আবদুর রহমান খান, এফসিএমএ

সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা।

98

বিশেষ করহার

মূলধনি আয়, লভ্যাংশ ও লটারি আয়

99

সপ্তম তফসিল

বিশেষ করহার

মূলধনি আয় করহার

ক. কোম্পানি, ব্যক্তিসংঘ বা ট্রাস্টের মূলধনি আয়ের উপর ১৫% কর প্রযোজ্য।
খ. অন্যান্য করদাতার ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ লেনদেন হতে অর্জিত মূলধনি আয়ের উপরও ১৫% কর
গ. অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রে:
  • ৫ বছরের মধ্যে বিক্রি করলে আয় নিয়মিত করহারে করযোগ্য।
  • ৫ বছর পর বিক্রি হলে মূলধনি আয়ের উপর ১৫% কর
ঘ. জমি বা স্থাপনা বিক্রিতে দলিল মূল্যের অতিরিক্ত প্রাপ্ত অর্থ মূলধনি আয় হিসেবে গণ্য হবে ও উপরোক্ত করহার প্রযোজ্য। (ব্যাংক বিবরণী ও দালিলিক প্রমাণ প্রযোজ্য।)

লভ্যাংশ ও লটারি আয়

লভ্যাংশ করহার:
  • কোম্পানি কর্তৃক প্রাপ্ত লভ্যাংশের উপর ২০% কর
  • অন্যান্য করদাতার ক্ষেত্রে, লভ্যাংশ মোট আয়ের সাথে যুক্ত হয়ে নিয়মিত করহারে করযোগ্য।
লটারি ও গেমস আয়:

লটারি, শব্দজট, অনলাইন গেম, কার্ড গেম বা অনুরূপ প্রতিযোগিতা হতে অর্জিত অর্থের উপর ২৫% কর ধার্য হবে।

100

বিশেষ আদেশ

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল

101

বিশেষ আদেশ

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR), রাজস্ব ভবন — www.nbr.gov.bd

পত্র নম্বর: ০৮.০১.০০০০.০৩০.৯৯.০০১.২৪/৯১

তারিখ: ২৭ শ্রাবণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ / ১১ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

বিশেষ আদেশ নং: ০১/২০২৫

বিষয়: ব্যক্তি করদাতাগণের অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত বিশেষ আদেশ

অনলাইনে রিটার্ন বাধ্যতামূলক

আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩২৮(৪) অনুযায়ী, ৪ আগস্ট ২০২৫ থেকে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের জন্য সকল স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে (www.etaxnbr.gov.bd) রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক, নিম্নলিখিত শ্রেণির করদাতা ব্যতীত:

  • ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ করদাতা
  • শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা (সনদসহ)
  • বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা
  • মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি
  • বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশী নাগরিক

উপরোক্ত শ্রেণির করদাতাগণ ইচ্ছা করলে স্বেচ্ছায় অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

ই-রিটার্ন সিস্টেমে সমস্যার ক্ষেত্রে

যদি কোনো করদাতা প্রযুক্তিগত বা নিবন্ধন-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ই-রিটার্ন দাখিল করতে না পারেন, তবে ৩১ অক্টোবর ২০২৫ এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে। অতিরিক্ত/যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে তিনি পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন।

চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

মোঃ আবদুর রহমান খান, এফসিএমএ

102

সাধারন জিজ্ঞাসা

103

রিটার্ন

সংজ্ঞা ও ফরম

রিটার্ন কি?

আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট একজন করদাতার বার্ষিক আয়, ব্যয় ও সম্পদের তথ্য নির্ধারিত ফরমে উপস্থাপনের মাধ্যমকে রিটার্ন বলা হয়। স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার রিটার্নে বাংলাদেশের ভিতরে ও বাইরে অবস্থিত সকল আয়, সম্পদ, দায় এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত ব্যয়ের বিবরণী অন্তর্ভুক্ত থাকে।

রিটার্ন ফরম কোথায় পাওয়া যায়?

সব আয়কর অফিসে সারা বছর বিনামূল্যে রিটার্ন ফরম পাওয়া যায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটে থেকেও পাওয়া যাবে: www.nbr.gov.bd। ফটোকপি ফরমও গ্রহণযোগ্য।

104

কারা রিটার্ন দাখিল করবেন?

করযোগ্য সীমা ও বাধ্যতামূলক রিটার্ন

দুই প্রকার করদাতা

  • করযোগ্য আয়ের ভিত্তিতে: যাদের আয় নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে।
  • আবশ্যিক রিটার্ন দাখিল: আইনে নির্ধারিত কিছু পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক।

করযোগ্য আয়ের সীমা

  • সাধারণ ব্যক্তি: আয় > ৩,৫০,০০০ টাকা
  • মহিলা ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব: আয় > ৪,০০,০০০ টাকা
  • তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি: আয় > ৪,৭৫,০০০ টাকা
  • গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা: আয় > ৫,০০,০০০ টাকা
  • প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতা/মাতার জন্য প্রতি সন্তান ৫০,০০০ টাকা অতিরিক্ত করমুক্ত সীমা

বাধ্যতামূলক রিটার্নের উদাহরণ

  • কোম্পানির পরিচালক, অংশীদার বা কর্মচারী
  • ব্যবসায়ী বা পেশাজীবী নিবন্ধন নবায়ন
  • ২০ লক্ষ টাকার ঋণ বা বড় লেনদেন
  • আমদানি/রপ্তানি নিবন্ধন, বীমা, ট্রেড লাইসেন্স
  • জমি/বিল্ডিং হস্তান্তর, বিবাহ বা পেশাজীবী লাইসেন্স
  • ই-কমার্স, মোবাইল ফাইন্যান্স, ইভেন্ট/পরামর্শ সেবা গ্রহণ
105

রিটার্ন দাখিল

সময়, পদ্ধতি ও ফলাফল

দাখিলের সময়

স্বাভাবিক ব্যক্তি: আয়বর্ষ শেষে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। অন্যান্য করদাতা: আয়বর্ষ শেষে নবম মাসের ১৫তম দিন পর্যন্ত।

সময় বৃদ্ধি

কর কমিশনার অনিবার্য কারণে ৯০ দিন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করতে পারেন, যদি আবেদন সময়মতো করা হয়।

পদ্ধতি

স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বা পরে ৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করা যায়; নির্দিষ্ট সময় পেরোলে সাধারণ পদ্ধতিতে দাখিল করতে হবে।

রিটার্ন দাখিলের স্থান

টিআইএন সার্কেল অনুযায়ী আয়কর অফিসে, বিদেশে থাকলে দূতাবাসে বা অনলাইনে etaxnbr.gov.bd এর মাধ্যমে।

রিটার্ন দাখিল না করলে পরিণতি

জরিমানা (ধারা ২৬৬), অতিরিক্ত কর (ধারা ১৭৪), ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্নতা, ও বেতনভাতা গ্রহণে জটিলতা হতে পারে।

106